শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: ‘২০১৬ সালে আমার জয়ের মার্জিন ছিল ৮২হাজার। উপ নির্বাচনে সেই রেকর্ড ভাঙবে।’ মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের নন্দনায়কবাড় প্রাইমারি স্কুলে মডেল বুথে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে ভোটার হওয়ার পর এনিয়ে পাঁচবার ওই বুথে ভোট দিলেন শুভেন্দুবাবু। এদিন ভোট দেওয়ার আগে এবং পরে স্থানীয়দের মুখোমুখি হয়ে তিনি ঘোষণা করেন, আজীবন এখানকার ভোটার থাকব। এটা আমার অঙ্গীকার।
রেজিনগর বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করা নিয়েও মুখ খোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোরবেলায় তিনি পুলিশকে আক্রমণ করার কথা বলেছেন। মাওবাদীরা যে ভাষায় কথা বলে, সেই ভাষায় উনি কথা বলেছেন। ভোটের দিন নির্বাচন কমিশনের হাতে আইনশৃঙ্খলা থাকে। আমরা সিকিউরিটি হোল্ডাররা নিজের বুথের বাইরে যেতে পারি না। আমি সেই নিয়ম মানলে উনি মানবেন না কেন?
এদিন সকাল ১১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী ভোট দিতে আসবেন বলে প্রশাসনের কাছে খবর ছিল। সেইমতো প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। নন্দনায়েকবাড় ৭৯ নম্বর ভোটগ্রহণ কেন্দ্রকে মডেল বুথ করা হয়েছিল। গোলাপি রংয়ের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল গোটা চত্বর। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে নিজের কার্যালয় থেকে টোটোয় চড়ে বেলা ১১টা ৪৮মিনিটে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যান শুভেন্দুবাবু। সঙ্গে ছিলেন দলীয় প্রার্থী হাসিরানি রথ। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ ভোটাররা তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজীবন আপনাদের সঙ্গে থাকব। আমৃত্যু নন্দীগ্রামের ভোটার হিসাবে আমাকে পাবেন। এটা আমার অঙ্গীকার।
ভোট দিয়ে বেরনোর পর বুথের ২০০মিটারের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। শুভেন্দুবাবু বলেন, নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে। উপনির্বাচনে ৮৫শতাংশ ভোটার ভোট দেবেন বলে আশা করছি। এটা ৯০ শতাংশ হলে খুব ভালো হয়। ফলাফল নিয়ে কিছু বলব না। ভোটের দিন আমাদের নির্বাচনি বিধি মেনে চলা উচিত। এই বিধিভঙ্গের কারণে নওদার বিধায়ক রেজিনগরে ভোট চলাকালীন গ্রেপ্তার হয়েছেন। নন্দীগ্রামের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সেই সুবাদে বলতে পারি, ২০১৬ সালে আমি সবচেয়ে বেশি ৮২হাজার ভোটে জিতেছিলাম। আমার বিশ্বাস, এবার সেই রেকর্ড ভাঙবে। মানুষ আরও একবার রাজ্য সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর আস্থা প্রকাশ করবেন।
এদিন ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার বলেন, আমি দু’টি বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে থাকতে পারি না। তাই নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। দল আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছে। সেটা আমি পালন করছি। কিন্তু, নন্দীগ্রামবাসী আমাকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে যেভাবে পেতেন আগামী দিনেও পাবেন।
এদিন ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী নন্দনায়কবাড়ে নিজের কার্যালয়ে বসেন। বেলা ২টো ১৫মিনিট পর্যন্ত তিনি ভোট নিয়ে খোঁজখবর নেন। নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে ভোটের হালচাল সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মেজাজে তিনি ওই কার্যালয় থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন।