নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হেমন্তের শেষলগ্নে ভোরবেলার প্রকৃতি মুড়ছে কুয়াশার চাদরে। সেই কুয়াশার আড়ালে রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা থাকছে লরি। তার থেকেই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এবার ভোররাতে রাস্তার পাশে লরি দাঁড় করিয়ে ‘শান্তির ঘুম’ ভঙ্গ করবে পুলিস। দুর্ঘটনা এড়াতে শীতকালীন কানুন আনছে রানাঘাট জেলা পুলিস।
Advertisement
৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের (বর্তমানে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক) আজ আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সেই মহাসড়ক দিয়ে দ্বিগুণ গতিতে কৃষ্ণনগর থেকে কল্যাণী পর্যন্ত ছুটছে গাড়ি। আচমকা রাস্তার এই উন্নতি অবশ্য বাড়িয়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। শীতের রাতে সেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। বিশেষত, কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। তাই দুর্ঘটনা ঠেকাতে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কের ধারে বেআইনিভাবে লরি দাঁড় করিয়ে শান্তির ঘুম নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিচ্ছে পুলিস। রানাঘাট জেলার পুলিসের সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, আমরা বিশেষ নাইট পেট্রলিংয়ের টিম নামাচ্ছি। তাদের কাজ হবে নিজস্ব এলাকায় রাতে জাতীয় সড়কের ধার থেকে সমস্ত অবৈধ পার্কিং সরিয়ে দেওয়া। কারণ আমরা জানি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসা মালবাহী লরিগুলি রাস্তার ধারেই অনেক সময় দাঁড় করিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বেশ কিছু গাড়ি এসে দাঁড়িয়ে থাকা সেই লরির পিছনে ধাক্কা মারে। অতীতে আমরা এই ধরনের দুর্ঘটনা বহুবার দেখেছি। তাই আমাদের বিশ্বাস নাইট পেট্রলিং কোনও ধরনের পার্কিং করতে দেবে না রাতের বেলা। এছাড়াও দুর্বার গতিতে বহু গাড়ি রাত্রিবেলা ছুটে যায়। আমরা বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় সড়কের উপর গার্ড রেল দিয়ে রাখছি। যাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর দুর্বার গতিতে ছুটে চলা গাড়িগুলিকে তাদের গতি কমাতে হয়। ওই সমস্ত পয়েন্টে পুলিস মোতায়ন রাখার ব্যবস্থাও হচ্ছে।
এছাড়াও, রানাঘাট পুলিসের অন্যতম মাথাব্যাথা সার্ভিস রোড। কারণ বহু জায়গাতেই এই সার্ভিস রোডগুলি হয়ে উঠেছে বাইক রেসিং অথবা স্টান্টবাজদের আড্ডা। নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে বাইক ছুটিয়ে দেওয়ার কারণে প্রায়শই, দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই বেশ কিছু জায়গা চিহ্নিত করে সার্ভিস রোডে হাম্প অথবা বাম্পার বসাচ্ছে পুলিস। যেমন রানাঘাট কলেজের সামনেও একাধিকবার এই ধরনের বাইক দৌরাত্ম্য নজরে আসে পুলিসের। তাই সেখানেও জোড়া স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে। জেলা পুলিস সুপার বলেন, সার্ভিস রোডগুলিতেও দেখা যাচ্ছে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। শান্তিপুর থেকে কল্যাণী পর্যন্ত রাস্তায় আমরা প্রায় দুই ডজনের কাছাকাছি জায়গা চিহ্নিত করতে পেরেছি। সেই সমস্ত জায়গায় আমরা গার্ড রেল অথবা স্পিড ব্রেকার তৈরি করার ব্যবস্থা করেছি। শীতকালীন ট্রাফিক নিয়মে পুলিস কড়া হবে। চলতে পারে ধরপাকড়ও।



