নয়াদিল্লি: বুধবার সকাল। বন্ধু আমান সিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন শ্রুতিকা। জীবনের প্রথম চাকরি। একটা অদ্ভুত উত্তেজনা ছিল। শ্রুতিকা বলেন ‘সাকেতের অফিসে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জয়েনিংয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তারপর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাব।’ কাগজপত্র গুছিয়ে দরজার দিকে এগচ্ছিলেন বছর ছাব্বিশের তরুণী। এমন সময় আমান শুনতে পান— ‘আগুন, বাঁচাও...বাঁচাও আমায়।’ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফোনটা কেটে যায়। তড়িঘড়ি আর এক বন্ধু ভাস্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমান। তখনই দিল্লির হোটেলে আগুন লাগার খবর মেলে। ততক্ষণে সব শেষ। আগুনে পুড়ে ছাই বন্ধু শ্রুতিকা ও তাঁর নতুন জীবনের স্বপ্ন। ভাস্করের কথায়, ‘দ্রুত দিল্লির বন্ধুদের ফোন করি। শ্রুতিকার বাবা-মাকে খবর দিই। কয়েক ঘণ্টা পর আত্মীয়স্বজনরা দিল্লি এইমসে পৌঁছে দেখেন, মর্গের বেডে পড়ে রয়েছে শ্রুতিকার দগ্ধ দেহ।’
মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে সদ্য স্নাতকোত্তরের পড়া শেষ করেছিলেন ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বাসিন্দা শ্রুতিকা বারানওয়াল। বিষয়— ওয়াটার পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স। ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টেই চাকরি পান। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লির মালব্য নগরের ওই ‘অভিশপ্ত’ হোটেলে উঠেছিলেন তরুণী। আর সেটাই কাল হল। জানা গিয়েছে, বুধবার তাঁর চেক-আউট করার কথা ছিল। কিন্তু ফেরা হল না। শ্রুতিকার মৃত্যুতে টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ক্যাম্পাসেও শোকজ্ঞাপন করা হয়েছে।
অগ্নি সুরক্ষা, নিরাপত্তা বিধি কোনোকিছুই মানা হয়নি। বেআইনি এই হোটেলের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই একাধিক গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে হোটেল মালিক লবকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই মাঝে তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর প্রথমবার ৬০ বছরের লবকেশকে পাকড়াও করা হয়েছিল। অভিযোগ, বাংলাদেশিদের ভুয়ো নথি জোগাড় করে দিতেন ধৃত হোটেল মালিক। ভারতীয় পাসপোর্ট, আধার কার্ড সহ একাধিক জাল নথি সরবরাহ করতেন তিনি। তাঁর মদতেই বাংলাদেশের বহু মানুষ দিল্লিতে সংসার পেতেছিলেন।