অ্যাডিলেড: পারথের ব্যর্থতাকে দূরে সরিয়ে রানে ফিরতে মরিয়া রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। দু’জনেই বুঝতে পারছেন, ক্রিকেট কেরিয়ার রীতিমতো খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। আর একটা ব্যর্থতা মানেই মারাত্মক চাপের মুখে পড়া। এমনকী, ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের সলিলসমাধি ঘটতে পারে। খুব তাড়াতাড়ি জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ডনের দেশের এই তিন ম্যাচই তখন না দুই মহাতারকার ফেয়ারওয়েল সিরিজে পরিণত হয়!
কোণঠাসা পরিস্থিতিতেও বিরাট, রোহিত অবশ্য যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকছেন। দু’জনেই মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ঘাম ঝরালেন। রোহিত তো প্রায় একঘণ্টা ব্যাট করলেন। বোঝা যাচ্ছে, রানে ফিরতে কতটা উদগ্রীব তিনি। কোহলিকে দেখা গেল অফস্টাম্পের বাইরে ব্যাকফুটে অজস্র শটের প্রস্তুতিতে। অস্ট্রেলিয়া গত টেস্ট সিরিজে তাঁর জন্য অফস্টাম্প লাইনে ফাঁদ পেতেছিল। একদিনের সিরিজেও সেই স্ট্র্যাটেজিই নেওয়া হয়েছে। রবিবার মিচেল স্টার্কের বাইরের ডেলিভারিতে মারতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন তিনি। অ্যাডিলেডেও সেই ফাঁদ থাকবে। পৌনে এক ঘণ্টার নেট সেশনে ভিকে তাই পয়েন্ট অঞ্চলের উপর দিয়ে তুলে তুলে শট নিলেন।
পারথে সিরিজের প্রথম ওডিআই বার বার ব্যাহত হয়েছে বৃষ্টিতে। ওভারসংখ্যা কমতে কমতে নেমে আসে ২৬ ওভারে। অ্যাডিলেডেও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সপ্তাহখানেক ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে অ্যাডিলেডের পিচ স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় রয়েছে। তা কাটানোর জন্য এদিন কিউরেটর সেন্টার উইকেটে ‘ইউভি ল্যাম্প’ জ্বালিয়ে রাখেন। তা থেকে উৎপন্ন হওয়া তাপে পিচ শুকনো রাখার চেষ্টা। উপমহাদেশে অনেক সময় এই কাজটাই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে করা হয়। বৃহস্পতিবার সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচও যদি মেঘলা পরিবেশে খেলতে হয়, ফের চাপে পড়তে পারে টিম ইন্ডিয়া। এমনিতেই পারথে মিচেল স্টার্ক ও জস হ্যাজলউডের লাইন-লেংথের সামনে অস্বস্তিতে দেখিয়েছে ব্যাটারদের। শুধু রোহিত-বিরাট নন, রান পাননি ক্যাপ্টেন শুভমান গিল, ভাইস-ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আয়ারও। এঁদের মধ্যে শ্রেয়স গত ওডিআই বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পিচের বাড়তি বাউন্সের সামনে অস্বস্তিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এদিন নেটে শ্রেয়সের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলতে দেখা যায় কোচ গৌতম গম্ভীরকে। দু’জনের অতীত সম্পর্কের নিরিখেও যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
দু’বছর পরের ওডিআই বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানেও অস্ট্রেলিয়ার মতো বাউন্স থাকবে। তাই শ্রেয়সদের অসহায়তা নিয়ে উদ্বেগ থাকছেই। তার উপর অ্যাডিলেডে ভারতের টিম কম্বিনেশন নিয়েও চলছে জল্পনা। কুলদীপ যাদবকে প্রথম এগারোয় রাখা হবে কিনা সেদিকে চোখ রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।