Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

তাড়াহুড়োয় বড়ো ম্যাচ আয়োজন যুক্তিহীন

মরশুমের প্রথম ডার্বি ম্যাচ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফুটবলারদের প্রস্তুতি নেই, বিদেশিরা ভিসা পাননি। বিস্তারিত পড়ুন।

তাড়াহুড়োয় বড়ো ম্যাচ আয়োজন যুক্তিহীন
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য: রাত পোহালেই মরশুমের প্রথম ডার্বি। বড়ো ম্যাচ দিয়ে ডুরান্ড কাপের উদ্বোধন। ফুটবলার তো বটেই, কোচ হিসাবেও বহু মহারণের সাক্ষী। কিন্তু এমন উদাহরণ বিরল। দুই দলই সবে প্রি-সিজন শুরু করেছে। ফুটবলারদের ফিটনেসে ঘাটতি স্বাভাবিক। তার উপর বেশিরভাগ বিদেশি ফুটবলার এখনও ভিসা পায়নি। ব্যক্তিগত মত, কয়েকদিন পর ম্যাচটা হলেই ভালো হত। আসলে কলকাতা ডার্বিই ভারতীয় ফুটবলের সেরা বিজ্ঞাপন। টুর্নামেন্ট জমাতে এর বিকল্প নেই। হাইপ তুলতে ডুরান্ড ম্যানেজমেন্টও একই রাস্তায় হাঁটছে। বড়ো ম্যাচ বাঙালির আবেগ। সমর্থকদের উন্মাদনা, উত্তেজনা স্বাভাবিক। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে অনুরোধ, বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে ভাবা উচিত। নিজেদের স্বার্থে ডার্বির আবেগকে বলি দেবেন না। কলকাতার দুই প্রধানেই এবার নতুন কোচ। গ্রিক কোচ পানোস মোহন বাগানের দায়িত্বে। ইস্ট বেঙ্গলের ভরসা সবুজ-মেরুনের প্রাক্তনী আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। কিন্তু অবাক করা তথ্য, প্রস্তুতির জন্য এক সপ্তাহও সময় পাচ্ছেন না তাঁরা। ফুটবল বিজ্ঞান, ম্যাজিক নয়। প্রি-সিজন গোটা মরশুমের ভিত। অন্তত দেড়মাস নিবিড় প্রস্তুতি জরুরি। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তা অসম্ভব। তড়িঘড়ি ম্যাচ খেলতে হওয়ায় পরিকল্পনা ধাক্কা খেতে বাধ্য। বৃষ্টিভেজা ভারি মাঠে লোড নিতে গিয়ে ফুটবলারদের পেশিতে টান ধরাও অস্বাভাবিক নয়। তাই আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Advertisement

ডার্বি সবসময় ফিফটি-ফিফটি। তবে এবারের ম্যাচ অনেকটাই আলাদা। দুই প্রধানে ভারতীয় স্কোয়াডই ভরসা। বিদেশিরা নেই কেন? সেখানেই চূড়াম্ত অপেশাদারিত্ব। দ্রুত ভিসা পেতে ফেডারেশনের কাগজ প্রয়োজন। কিন্তু তাদের ১৮ মাসে বছর। দুই প্রধান বারবার তাগাদা দিলেও ফেডারেশন সামান্য কাগজ পাঠাতে ব্যর্থ। তারই দায় বইতে হচ্ছে প্রতিটি দলকে। মোহন বাগান মাঝমাঠে তারকা প্রচুর। সাহাল, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন, মনবীররা অভিজ্ঞতায় এগিয়ে। বিশেষ করে লিস্টন ফ্যাক্টর হতে পারে। রাহুল ভেকে ও আলেক্স সাজির অন্তর্ভুক্তিতে রক্ষণে গভীরতা বেড়েছে। তবে ম্যাকলারেনের ঘাটতি মেটানো কঠিন। শুনলাম অজি ফুটবলার এখনও ভিসা পায়নি। লক্ষ্যভেদের জন্য কাকে ব্যবহার করবেন পানোস তা নিয়ে জোর কৌতূহল। কিয়ান, সুহেলের পাশাপাশি ড্র্যাজিচ ও মনবীরের দিকে নজর রাখতে হবে। ইস্ট বেঙ্গল কতটা গোছানো? চার বিদেশির মধ্যে রামিরেজ ও রশিদ অনুশীলনে নেমেছেন। তাদের ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। রক্ষণে আনোয়ারের উপর অনেককিছু নির্ভরশীল। গোটা ডিফেন্সকে লিড করার দায়িত্ব ওর কাঁধে। পাশাপাশি জেসিন, ডেভিডের দিকে নজর থাকবে। অস্কার জমানায় এই দু’জন সেভাবে ম্যাচ টাইম পায়নি। মর্যাদার ডার্বিতে হাবাস নিশ্চয়ই স্কোয়াডে রাখবেন ওদের। প্রমাণ করার এমন সুযোগ চট করে মেলে না। ডেভিডরা তা বুঝলে ইস্ট বেঙ্গলের মঙ্গল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ