নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গলের জুনিয়র দলের প্র্যাকটিসে শনিবার সকালে বিনো জর্জকে দেখে অবাক অনেকেই। তাহলে কি ডার্বির ডাগ-আউটে কেরালাইট কোচকেই দেখা যাবে? সেই সম্ভাবনাই প্রবল। ঘরোয়া লিগের প্রথম কয়েকটি ম্যাচে অবশ্য তিনিই কোচিং করিয়েছিলেন। পরে সিনিয়র দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিনোর পরিবর্তে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন অর্চিস্মান বিশ্বাস। অপরাজিত থেকে সুপার সিক্সের যোগ্যতা অর্জন করেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই ছন্দ বজায় রেখে ডার্বিতেও বাজিমাতের আশায় মশাল বাহিনী। এদিন ক্লাবের মাঠে দুই কোচের তত্ত্বাবধানে পুরোদমে মহড়া সারলেন বিজয় মুর্মূ-মহম্মদ বিলালরা। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে উইং-প্লে’তে জোর দেন বিনো। তবে সোমবার ডার্বিতে ইস্ট বেঙ্গল কি কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার খেলাবে? ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।
ক্লাবের তরফে চার ফুটবলার শৌভিক চক্রবর্তী, বরিস সিং, আসিফ খান ও নরেন্দ্র গেহলটের নাম আইএফএ’তে পাঠানো হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, তাঁদের নাম এখনও নথিভুক্ত করানো হয়নি। ফলে জারি রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর কথা মাথায় রেখে কোচ আন্তোনিও হাবাস নাকি সিনিয়র ফুটবলার ছাড়তে নারাজ। ক্লাবের তরফেও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। রবিবার সিনিয়র দলের ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। জুনিয়র দল গা ঘামাবে সকালে। সেখানে ডেভিড, শৌভিকরা আসেন কিনা সেটাই দেখার!
মোহন বাগান অবশ্য ডার্বিতে বেশ কিছু সিনিয়র প্লেয়ার খেলাবে। ঘরোয়া লিগের নিয়ম অনুযায়ী, ৬ জন ভূমিপূত্র খেলানো আবশ্যক। সেই সমীকরণ বজায় রেখে সাহাল, মেহতাব, মনবীরদের টিমে রাখার পরিকল্পনা ম্যানেজমেন্টের। শনিবার বিদেশি কোচ পানাজিওটিস এবং বাস্তব রায়ের তত্ত্বাবধানে গা ঘামালেন সাহাল-সায়নরা। এদিন মূলত রক্ষণ সংগঠনে জোর দিলেন কোচ পানোস। তারপর দলকে দু’ভাগ করে সিচুয়েশন প্র্যাকটিস করান। সেখানে পাসিং ফুটবলের পাশাপাশি ভেদশক্তি বাড়ানোয় জোর দিলেন সুহেল-মনবীররা। শেষে চলল সেট-পিসের মহড়া। তবে এদিন বৃষ্টির কারণে খুব বেশি সময় প্র্যাকটিস হয়নি। মাঠ ছাড়ার সময় অনুরাগীদের ডার্বি জেতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন সাহাল।
এদিকে, বারাসতে প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে মেগা ডার্বি। তার উপর ম্যাচ হবে ফ্লাডলাইটে । ফলে মহারণ ঘিরে উন্মাদনার পারদ চড়ছে। টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে। এখনও পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আইএফএ-এর তরফে আরও দেড় হাজার টিকিট ছাড়া হয়েছে। পাশাপাশি শনিবার বারাসত স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় এবং পুলিশ আধিকারিকরা। আইএফএ সচিব জানিয়েছেন, এই ম্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে শিল্ডের ম্যাচও এখানে করার পরিকল্পনা রয়েছে।