মেহতাব হোসেন: ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগান ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠলেই বারবার মনে হয়— কেন যে বয়সটা বাড়ল! কেন যে পেশাদার ফুটবল ছাড়তে হল! না হলে এই ম্যাচটাও খেলতে পারতাম। নেওয়া যেত শিলিগুড়ি ডার্বিতে হারের বদলা।
মেহতাব হোসেন: ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগান ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠলেই বারবার মনে হয়— কেন যে বয়সটা বাড়ল! কেন যে পেশাদার ফুটবল ছাড়তে হল! না হলে এই ম্যাচটাও খেলতে পারতাম। নেওয়া যেত শিলিগুড়ি ডার্বিতে হারের বদলা।
দীর্ঘ ফুটবল কেরিয়ারে দুই বড়ো ক্লাবের জার্সিতে ৬২টি ডার্বি খেলেছি। ময়দানে পা রাখলে বাতাসে এখনও বারুদের গন্ধ পাই। সোমবার ঘরোয়া লিগের বড়ো ম্যাচের আগে তেমনই উত্তাপ বটতলা চত্বরে। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে দু’দলের শেষ সাক্ষাতে মোহন বাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে মশালবাহিনী। ঠিক যেমনটা আমরা ২০১৫ ঘরোয়া লিগের ডার্বিতে জিতেছিলাম। ফ্রি-কিক থেকে ডু ডংয়ের জোড়া গোলে ৪-০ জয়ের আলো ছড়িয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। তারপর আরও তিনটি বড়ো ম্যাচে আমরা অপরাজিত থেকেছি। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়িতে আই লিগের ডার্বিতে থেমেছিল সেই দৌড়। মোহন বাগান জিতেছিল সোনির অনবদ্য পারফরম্যান্সে।
এখনও মনে আছে, সেই ম্যাচের কথা। মাঠে নামার আগে আমরাই এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু দিনটা আমাদের ছিল না। তার উপর কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মাঠে মাটিতে বল রেখে খেলতে খুব সমস্যা হচ্ছিল। আমরা তাই স্বাভাবিক ফুটবলটা মেলে ধরতে পারছিলাম না। ওদেরও হয়তো একই সমস্যা হচ্ছিল। তবে সোনির ফ্রি-কিকের গোলটাই ওদের চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। ওটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তবে আমার এখনও মনে হয়, বলটা সেভ হতে পারত। সেই গোলের পর আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সেই সময় আজহারের লক্ষ্যভেদে ম্যাচ পুরোপুরি হাত থেকে বেরিয়ে যায়। এখনও সেই হারের আক্ষেপ বয়ে বেড়াচ্ছি। সমর্থকরা অনেক আশা নিয়ে রাত জেগে শিলিগুড়ি গিয়েছিল। ম্যাচ শেষে ওদের চোখের জল আজও আমায় যন্ত্রণা দেয়।
খবরের কাগজে দেখলাম, ঘরোয়া লিগের মহারণে মোহন বাগান সিনিয়র ফুটবলারদের খেলাবে। তাদের জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল। তবে ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলারদের একটা কথাই বলব— উলটো দিকে কে খেলছে, তা নিয়ে ভেবো না। নিজেদের খেলায় মন দাও। মনে রেখো, তোমরা ইস্ট বেঙ্গলের জার্সি পরে মাঠে নামবে। ক্লাবের সম্মান তোমাদের হাতে। এই মঞ্চ সবার ভাগ্যে জোটে না। সেই সুযোগ যখন পেয়েছ, সেরাটা উজাড় করে দাও। দেখবে, সাফল্য তোমাদের কাছেই ধরা দেবে।