সনি নর্ডি: কলকাতায় এখন ডার্বি মরশুম চলছে। দেড় মাসে তিনটে বড়ো ম্যাচ। ডুরান্ড কাপে লিগ পর্বে মোহন বাগান জিতলেও, খেতাবি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে ইস্ট বেঙ্গল। ফাইনালে ১-৪ গোলে মোহন বাগানের হারটা মোবাইল ফোনে দেখেছি। খুব খারাপ লেগেছিল। সেই থেকে মনটা কলকাতায় পড়ে আছে। সামনে ঘরোয়া লিগের ডার্বি। সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের বদলা নেওয়ার সুযোগ। এই আবহের সঙ্গে আমি পরিচিত। মনে পড়ছে, ২০১৭ সালের শিলিগুড়ি ডার্বির কথা। সেবারও অনেকটা একই রকম পরিস্থিতিতে খেলতে নেমেছিলাম আমরা। লিগের ম্যাচে ৪ গোল হজমের পর আরও তিনটি ডার্বিতে জিততে পারেনি মোহন বাগান। তাই গনগনে উত্তাপের মধ্যেই আমরা পা রেখেছিলাম শিলিগুড়িতে।
মনে আছে, কলকাতায় ডার্বির শেষ প্রস্তুতির পর সমর্থকদের সেই আকুতির কথা। টানা চার ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জিততে না পারার যন্ত্রণা ছিল স্পষ্ট। যেখানেই যাচ্ছি একটাই আবদার, ‘এই ম্যাচটা জিততেই হবে।’ তখনও পর্যন্ত কলকাতা ডার্বিতে আমার কোনো গোল ছিল না। তাই একটু চাপ তো ছিলই। গোটা ড্রেসিং-রুমেও তা ছড়িয়ে পড়েছিল। এটাই তো মোহন বাগানের মতো বড়ো ক্লাবে খেলার মজা। চাপ উপভোগ করতে না পারলে সফল ফুটবলার হওয়া যায় না। আমরা নিজেদের শান্ত রেখেছিলাম। কিন্তু ম্যাচের দিন মাঠে নেমে এক আলাদাই অনুভূতি হয়েছিল। কলকাতার বাইরেও গ্যালারি হাউসফুল।
ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতেছিলাম। তার উপর কলকাতা ডার্বিতে আমার প্রথম লক্ষ্যভেদ। তাই ওই বড়ো ম্যাচটা আমার কাছে সেরা। সেলিব্রেশনের সময় আবেগ চেপে রাখতে পারিনি। শুনেছি, সেই স্টেনগান সেলিব্রেশন নিয়ে নাকি এখনও চর্চা হয়! ঘটনাটা আজ বলছি। ম্যাচের আগের রাতে স্ত্রী আমায় একটা ভিডিয়ো পাঠায়। তাতে দেখলাম, স্টেনগান চালানোর ভঙ্গিতে ছেলে আমায় উদ্বুদ্ধ করছে ডার্বির জন্য। তাই গোলটা ওকে উৎসর্গ করে ওই বিশেষ সেলিব্রেশন। বহু কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের স্বাদ পেয়ে সপ্তম স্বর্গে ভেসেছিলাম। সমর্থকরাও পেয়েছিল পরম স্বস্তি। ওদের আবেগের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না।
সবুজ-মেরুনের প্রাক্তনী হিসাবে ঘরোয়া লিগের মহারণের আগে এখনকার ফুটবলারদের জন্য একটা কথা বলতে চাই। আগের পরিসংখ্যান ভুলে যাও। এই লড়াইটা মোহন বাগানের জার্সির সম্মান রক্ষার। সেটা মাথায় রেখে নিজেদের উজাড় করে দাও। জানি, এখন ঘরোয়া লিগের উন্মাদনা আর আগের মতো নেই। তবুও বলব, বড়ো ম্যাচের চাপ আলাদা। আর তা সামাল দিতে পারলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।