নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পর্যটকদের দেখা নেই। শুনশান গজলডোবার ‘ভোরের আলো’। তিস্তাপাড়ে সার দিয়ে থাকা খাবারের দোকানগুলির ঝাঁপ বন্ধ। তিস্তা ক্যানালে নৌকা বিহারের চাহিদা না থাকায় পেটে টান পড়েছে মাঝিদের। নৌকা ফেলে রেখে কেউ দিনমজুরের কাজে যাচ্ছেন, কেউবা টোটো চালাচ্ছেন। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে গত ২৭ এপ্রিল থেকে গজলডোবা ব্যারেজের রাস্তা বন্ধ। এই দুইয়ের জেরে উত্তরবঙ্গের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ভোরের আলো’র হোটেল, রিসর্ট ব্যবসায়ী থেকে স্ট্রিট ফুড দোকানদারদের এখন মাছি মারার মতো অবস্থা।
দোকানদারদের দাবি, গজলডোবা ব্যারেজের রাস্তাটিই ভোরের আলো পর্যটনকেন্দ্রের লাইফলাইন। শিলিগুড়ি থেকে যাঁদের লাভা হয়ে পাহাড়ে যাওয়ার ট্যুর প্ল্যান থাকে, তাঁরা গজলডোবা হয়ে যেতে পছন্দ করেন। অনেকে আবার পাহাড় ঘুরে এনজেপিতে ট্রেন ধরতে যাওয়ার পথে গজলডোবা ছুঁয়ে যান। এছাড়া লাটাগুড়ি যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁরাও কয়েক ঘণ্টার জন্য গজলডোবা ঘুরে যান। নৌকা বিহার করেন। কিন্তু সংস্কারের জন্য ব্যারেজের রাস্তা বন্ধ থাকায় পর্যটকরা এখন কেউ ঘুরপথে গজলডোবায় আসতে চাইছেন না। ভোরের আলো’য় পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে বিশ্ববাংলা বিপণী। সাইকেল রাইডও বন্ধ। বিকেলে তিস্তা ব্যারেজের পাশে ঠেলাগাড়িতে যেসব খাবারের দোকান বসত, চোখে পড়ছে না সেগুলিও। নদীর ধারে ছাউনির নীচে মাছভাজার দোকানগুলির বেশিরভাগই খুলছে না।
ব্যবসায়ীদের দুরাবস্থার কথা অজানা নয় গজলডোবা উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান তথা রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের। তিনি বলেন, এটা ঠিক ব্যারেজের রাস্তা বন্ধ থাকায় ভোরের আলো পর্যটন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে মার খাচ্ছে। সেখানকার দোকানদারদের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, কিছুদিন আগে গজলডোবা ব্যারেজের রাস্তার কাজ দেখে এসেছি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বলা হয়েছে, যেভাবেই হোক পয়লা আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করে রাস্তা খুলে দিতে হবে।
গজলডোবায় তিস্তাপাড়ে ছাউনির নীচে মাছের চপ, শিঙাড়া, মাছভাজার ৪৫টি দোকান রয়েছে। শনিবার গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দু’টি দোকান খোলা। সাধন সন্ন্যাসী নামে এক দোকানদার বলেন, পর্যটকরা তো কেউ আসছেন না। তাহলে দোকান খুলে কী করব! নবীন বিশ্বাস নামে এক মাঝি বলেন, গজলডোবায় তিস্তা ক্যানেলে নৌকা বিহার ও পাখি দেখার জন্য সবমিলিয়ে ৭০টি নৌকা রয়েছে। কিন্তু লোক কোথায়। মাঝিরা নৌকা ফেলে রেখে টোটো চালাচ্ছেন। অনেকে আবার দিনমজুরের কাজে যাচ্ছেন। নিজস্ব চিত্র।