Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোকানে দখল নিকাশি খাল, বর্ষার শুরুতেই ভাসছে রানাঘাট শহরের শরৎপল্লি, দুর্ভোগ

দখলে জর্জরিত এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার মূল মাধ্যম একমাত্র খালটি। ফলে চূর্ণী নদী এবং ওই হাঙর খালের নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ার কারণে প্রতি বৃষ্টিতেই জল থই থই অবস্থা হচ্ছে রানাঘাট শহরের ভবানীগড়, শরৎপল্লি এলাকা।

দোকানে দখল নিকাশি খাল, বর্ষার শুরুতেই ভাসছে রানাঘাট শহরের শরৎপল্লি, দুর্ভোগ
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দখলে জর্জরিত এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার মূল মাধ্যম একমাত্র খালটি। ফলে চূর্ণী নদী এবং ওই হাঙর খালের নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ার কারণে প্রতি বৃষ্টিতেই জল থই থই অবস্থা হচ্ছে রানাঘাট শহরের ভবানীগড়, শরৎপল্লি এলাকা। মঙ্গলবার পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিকাশির একটি অংশ সংস্কারের কাজ করে রানাঘাট পুরসভা। যদিও দখলে জর্জরিত খালের কারণে আদৌ কোনওদিন এই সমস্যা মিটবে কি না, তা নিয়ে ধন্দে পুরসভা নিজেও। 

Advertisement

কুপার্স থেকে উৎপত্তি হয়ে রানাঘাট শহরের সাধুর বাগান, মিশন গেট দিয়ে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীগড় শরৎপল্লি এলাকায় ঢুকেছে হাঙর খাল। এরপর শ্রীনাথপুর হয়ে আনুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় চূর্ণী নদীতে মিশেছে খালটি। স্বাভাবিকভাবেই গঙ্গা অভিমুখে থাকা চূর্ণী এবং চূর্ণী নদীমুখী হাঙর খালের প্রবাহের কারণে এই অঞ্চল নিম্ন অববাহিকা। কিন্তু সাধারণ মানুষের একাংশের তরফেই লাগামছাড়া দখলের কারণে বহু অংশেই খাল বিলুপ্তির পথে। অনেক জায়গায় ব্যক্তিগত বাড়ির অংশ খালের জায়গা দখল করে তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। আবার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরি হওয়ার সময় মিশন গেটের কাছে খালের একটি অংশ এমনিতেই বুজে গিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই লাগাম ছাড়া এই দখলের কারণে এখন এলাকার নিকাশি ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে। রানাঘাট পুরসভার সূত্রের খবর, ৯, ১০, ১১, ১২-র মতো একাধিক ওয়ার্ডের বড় নিকাশি নালাগুলি নির্ভরশীল এই হাঙর খালের উপর। অথচ বাস্তবে খালটির কী অবস্থা? মিশন গেটের কাছেই একসময় ৮ ফুটের বেশি চওড়া ছিল হাঙর খাল। তা বর্তমানে মেরে কেটে ৩ ফুট হয়ে গিয়েছে। ফলে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। রীতিমতো জল থই থই করছে ওয়ার্ডের একাধিক রাস্তা। আর সেই জল যন্ত্রণায় ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যদিও মঙ্গলবার পুরসভার তরফে ১১ ওয়ার্ডে মাটি কাটার যন্ত্র নিয়ে গিয়ে নিকাশি নালার পাইপ লাইনের বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকা প্লাস্টিক সরিয়ে দেওয়া এবং জল বেরনোর রাস্তা চওড়া করার কাজ করা হয়। তাতে অবশ্য কিছুটা সুরাহা মিলেছে। যদিও সেটা যে স্থায়ী সমস্যা নয়, তা মানছেন খোদ পুরসভার কর্তারাই। 
বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা সব রকমভাবে চেষ্টা করছি, যাতে জমা জল আটকানো যায়। কিন্তু হাঙ্গর খাল এমন কিছু জায়গায় এত খারাপভাবে দখল হয়েছে যে, আমরা চাইলেও জল বের করতে পারছি না। আমরা জেলাস্তর পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে যাচ্ছি। যাতে অন্তত কিছু জায়গা দখলমুক্ত করে খালটি দিয়ে জল প্রবাহ বাড়ানো যায়। না হলে আগামীতে রানাঘাট শহরকে আরও ভুগতে হবে। প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের তরফেই দখল নয়, জাতীয় সড়ক তৈরির সময়তেও খালের একটা বড় অংশ বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। পুরসভা চাইলেও এত বড় কাজ একার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে অবিলম্বে হাঙর খালের প্রস্থ ও গভীরতা বাড়ানো এবং দখলমুক্ত করা না গেলে আগামী ভবিষ্যতের জন্য সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ