সংবাদদাতা, কান্দি: খড়গ্রামে চুরির ভোজ্যতেল কাণ্ডে এবার গ্রেপ্তার এক শপিংমলের মালিক। প্রায় একমাস ধরে চুরির ওই ভোজ্য তেল কম দামে বিক্রি হচ্ছিল স্থানীয় কুড়াপাড়ার এক শপিংমলে। বুধবার রাতে ওই শপিংমল থেকে বাজেয়াপ্ত করা হল কয়েক লক্ষ টাকার চুরির ভোজ্য তেল। গ্রেপ্তার করা হল খড়গ্রামের বাসিন্দা শপিংমলের মালিক কাজি মঈন মিজান ওরফে অ্যালেক্সকে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় একমাস আগে হুগলির এক ব্যবসায়ীর ভোজ্যতেল ট্রাকে করে হলদিয়া ডক থেকে শিলিগুড়ির দিকে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাকের চালক ওই ভোজ্যতেল রাস্তাতেই লুট হয়ে গিয়েছিল বলে মালিককে জানিয়েছিল। এর পরবর্তীতে ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে হুগলি পুলিস। গ্রেপ্তার হয় ট্রাক চালক। জেরায় চালক জানিয়েছিল, ভোজ্য তেল লুট হয়নি। সেগুলি অল্প দরে কয়েক জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতেই ধৃত ট্রাক চালককে সঙ্গে করে খড়গ্রাম থানায় পৌঁছয় হুগলি পুলিসের একটি দল। এরপর স্থানীয় জয়পুর গ্রামের ব্যবসায়ী পলাশ মণ্ডল ও গৌরাঙ্গ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দিনভর ধৃতদের খড়গ্রাম থানায় জেরা করা হয়। জেরায় ধৃতরা জানিয়েছিল, ট্রাক চালক ভোজ্য তেল যাত্রাপথের কয়েকটি জায়গায় বিক্রি করেছে। খড়গ্রাম এলাকাতেও তাদের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকার তেল বিক্রি করা হয়। সেই তেল তারা একটি শপিংমল সহ কয়েকটি দোকানে সাপ্লাই দিয়েছে। বুধবার রাতে পুলিস স্থানীয় কুড়াপাড়া গ্রামের ওই শপিংমলে হানা দেয়। সেখান থেকে কয়েক লক্ষ টাকার চুরির ভোজ্য তেল বাজেয়াপ্ত করে। গ্রেপ্তার করা হয় শপিংমলে মালিককে। জানা গিয়েছে, গত একমাস ধরে ওই শপিংমলে খব কম দরে ভোজ্য তেল বিক্রি করা হচ্ছিল। ফলে দোকান খুলতেই সেখানে তেল কেনার হিড়িক পড়ে যেত। শপিংমল থেকে জানান হতো, বিশেষ অফার চলছে। তার ফলে অন্যান্য দোকানদাররা ব্যবসায় মার খাচ্ছিলেন। স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী হাসমত মোমিন বলেন, যে তেল ১৬৫ টাকার বোতল, সেই তেল বিক্রি হচ্ছিল ১৩০ টাকায়। ২৭০০ টাকার তেলের জ্যারিকেন বিক্রি করা হচ্ছিল দুই হাজার টাকায়। এর ফলে শুধু আমরা নই, মহাজনরাও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। এখন স্থানীয় দোকানদাররা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন বলে জানিয়েছেন।