Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ধনতেরসের প্রথম দিনই কেনাকাটায় জমাটি ভিড়

পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী আজ, রবিবারও ধনতেরসের তিথি থাকছে। তবে অপেক্ষা না করে শনিবার, ধনতেরসের প্রথম দিনেই কেনাকাটায় মাতল মানুষ।

ধনতেরসের প্রথম দিনই কেনাকাটায় জমাটি ভিড়
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১৮:১০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী আজ, রবিবারও ধনতেরসের তিথি থাকছে। তবে অপেক্ষা না করে শনিবার, ধনতেরসের প্রথম দিনেই কেনাকাটায় মাতল মানুষ। স্বর্ণবিপণি থেকে বাসনপত্রের দোকান—সর্বত্র জমাটি ভিড়। লাগামছাড়া সোনার দাম, আচমকা বেড়ে যাওয়া রুপোর দর এতটুকু দমাতে পারেনি ক্রেতাদের উৎসাহকে। সবাই গয়নাগাটির মতো বড় বাজেটের দিকে না হাঁটলেও বেছে নিয়েছেন বাসনপত্র বা গেরস্থালির নানা উপকরণ। দেদার বিক্রি হয়েছে বৈদ্যুতিন সামগ্রী। এমনকি, শাড়ির দোকানগুলিতেও লাগল ধনতেরসের আঁচ। দীপাবলি ও দেওয়ালির একেবারে দোড়গোড়ায় ধনতেরসকে সামনে রেখেই আরও এক দফা উৎসবের সূচনা করে দিল আম জনতা। কলকাতা ছাড়িয়ে সেই উৎসবের রেশ রাত পর্যন্ত অটুট রইল জেলায় জেলায়। 

Advertisement

ব্য‌বসায়ীদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স’-এর হিসেব, এবার দেশজুড়ে ধনতেরসের কোনাকাটা হতে চলেছে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার। এর মধ্যে শুধু গয়নাগাটির বিক্রিই পৌঁছবে ৬০ হাজার কোটি টাকায়। সংগঠনের মহাসচিব তথা সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়ালের কথায়, ‘গত বছরের তুলনায় এবার সোনা প্রায় ৬০ শতাংশ চড়া। রুপোর দাম বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। কিন্তু কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি ক্রেতাদের। আমাদের হিসেব, গেরস্থালি ও রান্নাঘরের সরঞ্জামের ব্যবসা ১৫ হাজার কোটিতে পৌঁছবে। কারণ, সিংহভাগ মানুষ ধনতেরসের উদযাপনে এগুলি কিনছেন। বৈদ্যুতিন যন্ত্রের ব্যবসা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার।’   
এদিন সকাল থেকেই সোনার দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আলো, জুঁইয়ের সাজ, কফির গন্ধ আর কোল্ড ড্রিঙ্কের উল্লাসে শোরুমগুলিতে ফিরেছিল ধনতেরসের চেনা ছবি। ক্যাশবাক্সেও যে তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে—স্বীকার করে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি ও সিইও শুভঙ্কর সেনের কথায়, ‘সোনার দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে ওজনের নিরিখে গতবারের তুলনায় বিক্রিবাটা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে ঠিকই। কিন্তু টাকার অঙ্কের নিরিখে বিক্রি বেড়েছে অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। ক্রেতারা খোলা মনে ১৮, ১৪ ও ৯ ক্যারেটের গয়না কিনেছেন। নিত্য‌঩দিনের ব্যবহারের জন্য হীরে ও প্ল্যাটিনামের হালকা গয়নার বিক্রি ভালোই হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ভারী ওজনের গয়না বিক্রি হয়েছে মূলত বিয়ের মরশুমের জন্য। যাঁরা বিনিয়োগ হিসেবে সোনা কেনেন, তাঁরাও দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেনাকাটায় মেতেছেন। 
শ্যামবাজারের বেনারসি টেক্সটোরিয়ামের ভিড় সামলে কর্ণধার তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বেনারসের আদি বাসিন্দা হওয়ায় আমরা এখানে ধনতেরসের প্রচলন শুরু করেছিলাম বহু বছর আগে। এদিন আমাদের দীর্ঘদিনের পরিচিত ক্রেতারা আসেন। ধনতেরসের শুভক্ষণে বিয়ের বেনারসি ও জোড় বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য শাড়িও বিক্রি হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ