নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ষার বৃষ্টিতে রাস্তার দু’পাশে থাকা গাছগুলির পাতা সবুজ হয়ে রয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ঘন জঙ্গল। কোথাও কোলাহল নেই। মাঝেমধ্যে অজানা কোনও পাখির ডাকে কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধতা ভাঙছে। তবে সেই ডাক কানে আসতেই যেন এক অন্য অনুভূতি হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের জঙ্গলমহল হিসেবে পরিচিত আউশগ্রাম ট্রেস কাটানোর পক্ষে উপযুক্ত জায়গা। বনের পথ ধরে হেঁটে চললে চোখে পড়তে পারে পেখম তুলে ময়ূরের নৃত্য। বিশেষ করে, আদুরিয়া জঙ্গলে এই ছবি ছিল অতি পরিচিত। এখনও ময়ূর এসে নৃত্য করে ঠিকই, কিন্তু আগের মতো বেশি সংখ্যায় নয়। স্থানীয়রা বলছেন, এর পিছনে দায়ী ‘লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন’ এর প্রতিধ্বনি। কখনও জঙ্গলের রাস্তা ধরে ঘোড়ায় চড়ে ছুটছে নায়ক। আবার কখনও রিলস দুনিয়ার নায়িকারা তারস্বরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে অবিরত নৃত্য করে চলছে। আবার গ্রীষ্মের দুপুরে রহস্যজনকভাবে আগুন লাগছে জঙ্গলে। দু’-তিনদিন ধরে জ্বলছে আগুন।
তাই স্থানীয়রা চাইছেন জঙ্গলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ জারি হোক। সিনেমার শ্যুটিং হোক। কিন্তু, তারজন্য নির্দিষ্ট জায়গা বেছে নিতে হবে। জঙ্গলের যেখানে সেখানে নায়ক-নায়িকাদের দাপাদাপি বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা পথেও নামতে চলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বন্যপ্রাণী এবং গাছ রক্ষা করতে বনদপ্তরকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। জঙ্গলের পরিবেশ নষ্ট করে মোরাম তোলা হয়েছে। সেসব বন্ধ করতে হবে। ফাঁকা হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে গাছ রোপণ করতে হবে। সেটা হলেই আবার ময়ূরের নৃত্য দেখা যাবে। ভাল্কির কাছে দাঁড়িয়ে রামলাল সোরেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আগে জঙ্গল থেকে ব্যাপকভাবে গাছ কাটা হয়েছে। সেই তুলনায় নতুন করে গাছ রোপণ করা হয়নি। এক বছর আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে মোরাম তোলা হয়েছিল। সেই সময়ও অনেক গাছ নষ্ট করা হয়েছে। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, অনুমতি না নিয়ে ইউটিউবাররা যেখানে সেখানে শ্যুটিং করছে। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো সাউন্ড বক্স বাজিয়ে চলে। বন্যপ্রাণীরা সেসব পছন্দ করে না।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের বন ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আউশগ্রামের জঙ্গল আমাদের অহংকার। এই জঙ্গল রক্ষা করার জন্য সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আদুরিয়া জঙ্গলে এখনও ময়ূর দেখা যায়। এবছর গ্রীষ্মের সময় জঙ্গলে আগুন লেগেছিল। এসব কারণে কিছু ময়ূর ঘন জঙ্গলে চলে যেতে পারে। জঙ্গল রক্ষা করার জন্য সবসময় নজরদারি চালানো হয়। শ্যুটিং করার জন্য কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়। সেসব মেনে চলতে হয়।-নিজস্ব চিত্র