Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শোভাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড

কালিয়াচকের শোভাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ মণ্ডলকে গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতি ও বহুবিধ অনিয়মের অভিযোগে সাসপেন্ড করল মালদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।

শোভাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াচক: কালিয়াচকের শোভাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ মণ্ডলকে গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতি ও বহুবিধ অনিয়মের অভিযোগে সাসপেন্ড করল মালদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। গত তিন মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে তদন্ত চলার পর সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বুধবার বরখাস্তের নির্দেশে সিলমোহর দেন মালদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপার্সন বাসন্তী বর্মন।

Advertisement

স্কুলে প্রতাপ মণ্ডলের আচরণ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ বাড়ছিল সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক ও গ্রামবাসীর মধ্যে। অভিযোগ ছিল, স্কুলে যথেচ্ছ অনুপস্থিত থাকা, দেরিতে আসা, সহকর্মীদের প্রতি দুর্ব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা এবং স্কুলের নথি সংরক্ষণে চরম শিথিলতা। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বারবার মৌখিক অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি গণ পিটিশন সহ লিখিত অভিযোগও জমা দেন শিক্ষাদপ্তরে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ৩১ জুলাই আকস্মিক পরিদর্শনে যান জেলার সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক আব্দুল মালেক সহ আরও দুই আধিকারিক। সেদিনের পরিদর্শনেই ধরা পড়ে ভয়াবহ সব অসঙ্গতি। স্কুলের রেজিস্টার অনুযায়ী ছাত্রসংখ্যা ৮০০’র বেশি হলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকত মাত্র ৩০ থেকে ৫০ জন। অথচ মিড ডে মিল রান্না হত ২৫০-৩০০ জনের হিসেবে। শুধু তাই নয়, সেদিন স্কুলে পাওয়া যায়নি অ্যাটেনডেন্স রেজিস্টার, ভর্তি রেজিস্টার বা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি। স্কুল চত্বর ছিল অস্বচ্ছ, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। টয়লেটগুলি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য ছিল। খোলা জায়গায় শৌচকর্মের চিহ্নও লক্ষ্য করা যায়, যা শিক্ষার পরিবেশকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক দিনই স্কুল দুপুর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এমনকী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় প্রধান শিক্ষকের জন্য। স্থানীয় বাসিন্দা তথা এক ছাত্রীর অভিভাবক আব্বাস শেখ বলেন, স্কুলের উন্নয়নের টাকার কোনও হিসেব আমরা পাই না। বাচ্চাদের স্কুলমুখী করার মতো পরিবেশ নেই এখন। একই অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী মোরসালিম শেখ। তিনি বলেন, এখানে শিক্ষার পরিবেশ বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় কুমার মণ্ডল বলেন, জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে গিয়ে যা দেখা গিয়েছে তা রিপোর্ট আকারে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রধানশিক্ষককে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে প্রতাপ মণ্ডল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ