Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিল্পাঞ্চলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার দুষ্কৃতীদের ঠেক, বাড়ছে অপরাধ

শিল্পাঞ্চলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার দুষ্কৃতীদের ঠেক, বাড়ছে অপরাধ
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: শ্রমিকদের জন্য তৈরি কোয়ার্টার নিয়ে উদাসীন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ইসিএল, রেল ও সেইল। যে সব কোয়ার্টারে সংস্থার শ্রমিকরা থাকে সেখানে নজরদারির বালাই নেই। পরিকাঠামোও সেকেলে। দরজা, জানলা ভেঙে সহজেই দামি সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। আর যে সব আবাসন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকছে সেখানে ডেরা বাঁধছে দুষ্কৃতীরা। তা মাদক সেবনের  আস্তানায় পরিণত হয়েছে। কোয়ার্টার দখল করে প্রভাবশালীরা অসাধু কারবারও চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। 
Advertisement
ইস্কোর জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর কুমার বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে কোয়ার্টারগুলি সংস্কার করি। এছাড়া নতুন কারখানার জন্য বহুতল আধুনিক আবাসন গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর পাণ্ডবেশ্বর থানার কুমারডিহি স্টাফ কলোনিতে একটি বাড়িতে চুরি হয়। একাধিক বাড়ির দরজার তালা ভেঙে ছিল চোরেরা। ইসিএলের আবাসনে এই চুরির পরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর আগে আসানসোলে দোমাহানি রেল কলোনিতে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছিল। একইভাবে হীরাপুর থানা এলাকায় ইস্কোর কোয়ার্টারে একের পর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি গ্যাং শিল্পাঞ্চলের কোয়ার্টারগুলিকে টার্গেট করছে। দিনের বেলাতেও কোয়ার্টার সাফ করে দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। স্থানীয়দের অনুমান, মূলত কোয়ার্টারগুলিকে টার্গেট করার পিছনে বড় কারণ কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার আবাসন কলোনিতে ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দরজাগুলি বেহাল। নেই সিসিক্যামেরার নজরদারি। সংস্থাগুলি হাজার হাজার কোটির মুনাফা করলেও শ্রমিক কোয়ার্টারের মানোন্নয়ন হয়নি। 
বহু কোয়ার্টার পড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত ভূতের বাড়ি হয়ে। সেই আবাসনগুলিতেই দুষ্কৃতীরা নানা অসামাজিক কাজ করে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। রাতে বসে নেশার আসর। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই বিভিন্ন অপরাধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। 
ইসিএলের আইএনটিইউসি নেতা চণ্ডী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইসিএলের ৮০ হাজার কোয়ার্টার রয়েছে শিল্পাঞ্চলে। তারমধ্যে ২০ হাজার কোয়ার্টারে শ্রমিক থাকে। বাকিগুলি পরিত্যক্ত। বেশিরভাগ দখল হয়ে গিয়েছে। কোয়ার্টারগুলি আমাদের শ্রমিকদের পাশাপাশি সমগ্র শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তার বড় থ্রেট হয়ে উঠছে। 
সিটুর জেলা সাধারণ সম্পাদক বংশগোপাল চৌধুরী বলেন, আমাদের সময়ে কেন্দ্রকে চাপ দিয়ে বিভিন্ন পরিত্যক্ত আবাসন ভাঙিয়েছি। যেগুলি দুষ্কৃতীদের ডেরায় পরিণত হচ্ছিল। এখন সেই সব বিষয় নিয়ে কারও নজর নেই। যার মূল্য চোকাতে হচ্ছে জেলাবাসীকে। 
শুধু অসামাজিক কাজ কর্মই নয়, এই কোয়ার্টারগুলি অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে বিপুল অর্থ রোজগার করছে এলাকার প্রভাবশালীরা।  রূপনারায়ণপুরে হিন্দুস্থান কেবলসের কোয়ার্টারগুলি নির্বিচারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপুর থেকে বার্নপুর সেইলের ফাঁকা কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে করা হচ্ছে রোজগার। যারা এই কোয়ার্টারগুলিতে আসছে তাদের কোনও পরিচয়ই যাচাই করা হয় না। তাই এখানে সমাজবিরোধীরা সহজেই গা ঢাকা দিতে পারে বলে পুলিসের একাংশ আশঙ্কা করছেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ