Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়ির হোটেলে রুম চেয়ে চারদিনে ১৫০ বাংলাদেশির ফোন, নারাজ ব্যবসায়ীরা

শিলিগুড়ির হোটেলে রুম চেয়ে চারদিনে ১৫০ বাংলাদেশির ফোন, নারাজ ব্যবসায়ীরা
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: চারদিনে প্রায় দেড়শো ফোন কল। সবগুলি বাংলাদেশ থেকে। রুমের আর্জি। সবগুলি প্রত্যাহার করেছেন শিলিগুড়ির হোটেল ব্যবসায়ীরা। তবে রুম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে থেকে চিকিৎসার জন্য এখানকার হোটেলে রয়েছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। পদ্মাপারের সেই বাসিন্দারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন। তাঁদের কার্যত আগলে রেখেছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে মহানন্দা পাড়ের ব্যবসায়ীরা মানবিক মুখের পরিচয় দিয়েছেন। 
Advertisement
কয়েক মাস ধরে অভ্যন্তরীণ গোলমালে জেরবার বাংলাদেশ। সেখানে এখন কট্টরপন্থীদের দাপট লাগামহীন বলেই অভিযোগ। প্রতিদিনই পদ্মপারে ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ে মহানন্দার পাড়ে শিলিগুড়িতে। গত মঙ্গলবার এখানকার হোটেল ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশিদের রুম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর থেকে প্রচুর বাংলাদেশি রুমের জন্য শহরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চারদিনে রুম চেয়ে প্রায় দেড়শো জন বাংলাদেশি ফোন করেছিলেন। 
গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, রুম চেয়ে বাংলাদেশিরা প্রতিদিনই ফোন করছেন। কিন্তু বিভিন্ন মহলের দাবিমতো সংগঠনের আলোচনা করে বাংলাদেশিদের রুম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই রুমের জন্য যেসব বাংলাদেশিরা ফোন করছেন, তাঁদের সরাসরি না বলে দেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে কোনও বাংলাদেশিকে রুম ভাড়া দেওয়া হবে না। 
অন্যদিকে, এখানকার হোটেলে এখনও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাঁরা এখানে চিকিৎসা ভিসা নিয়ে এসেছেন। হোটেলে থেকে আত্মীয়র চিকিৎসা করছেন। তাঁদের কয়েকজন বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো নেই। সেখানে যা ঘটছে তা মানা যাচ্ছে না। আমাদের সঙ্গে এপারের (ভারতের) আত্মীয়তার সম্পর্কে চিড় ধরছে। আগামীতে যে কি হবে, তা বুঝতে পারছি না। পদ্মপারের ওই উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের কার্যত আগলে রেখেছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। 
গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বলেন, আমাদের দরজা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে থেকেই ২০ থেকে ২২ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন হোটেলে রয়েছেন। আত্মীয়দের চিকিৎসা করাচ্ছেন। তাঁরা আমাদের অতিথি। তাঁদের সুরক্ষার দিকে নজর রাখছি। এখানে তাঁদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছি। ওরা আমাদের সঙ্গে বেইমানি করলেও আমরা তা করতে পারি না।
সম্পর্কিত সংবাদ