Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষাবর্ষ শেষের পথে, পোশাক মেলেনি পড়ুয়াদের

শিক্ষাবর্ষ শেষের পথে, পোশাক মেলেনি পড়ুয়াদের
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: তৃতীয় সাময়িকী পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হচ্ছে শিক্ষাবর্ষ। আর ক’দিন পরেই নতুন শিক্ষাবর্ষের পড়া শুরু হতে চলেছে, অথচ এখনও করিমপুরের স্কুলগুলোতে সরকারের দেওয়া পোশাকের কেউ একটিও পায়নি, কেউ পেয়েছে এক সেট। ফলে ক্ষোভ জন্মেছে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে। বিভিন্ন স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর সাতেক আগে স্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পোশাকের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ সরাসরি স্কুলে আসত। অনুমোদিত ছাত্রপিছু চারশো টাকা পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিত স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারপর বন্ধ হয়ে যায় সরাসরি টাকা দেওয়া। দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উপর এবং পোশাকের জন্য বরাদ্দ বেড়ে চারশো টাকা থেকে ছ’শো টাকা করা হয়। তখন পোশাকের কাপড়ের নমুনা দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ জামা প্যান্টের কাপড় পছন্দ করত এবং সেই কাপড়ের পোশাক ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হতো। এখন ছাত্রছাত্রীদের জামা প্যান্টের জন্য মাপ নেওয়া হয়। পরে সেই পোশাক তৈরি করে দেওয়া হয়। কিন্তু পড়ুয়াদের অভিযোগ, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে চলল। কিন্তু অনেক স্কুলে পোশাক দেওয়া হয়নি। কোনও স্কুলে দুই সেটের বদলে এক সেট দেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, করিমপুর চক্রে মোট ১৭টি হাইস্কুল ও ৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩৫ হাজার ৭৩২ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ২১ হাজার ২৩১ জন পোশাক পেলেও ১৪ হাজার ৫০১ জন ছাত্রছাত্রী স্কুলড্রেস পায়নি। রানিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীযূষ জোয়ারদার বলেন, এই স্কুলে প্রাক প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ৩৯ জন ছাত্রছাত্রী পড়ে। সকলেই খুব দুঃস্থ পরিবারের। তাদের কাছে মিড ডে মিলের খাবার যেমন দুপুরের খাবারের ভরসা তেমনি স্কুলের দেওয়া দুই সেট পোশাকও তাদের খুব দরকার। অথচ এই বছরে সকলে এক সেট হাফ হাতা জামা ও হাফ প্যান্ট পেলেও ফুল হাতা জামা ও ফুল প্যান্ট পায়নি। শীতের সময় ফুল পোশাক সেট দিলে সকলেই উপকৃত হয়। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে জানিয়েও কাজ হয়নি। কেচুয়াডাঙা বিধানচন্দ্র বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ওই স্কুলের ৪৩৬ জন পড়ুয়া একটি হাফহাতা জামা পেয়েছে কিন্তু সেটের প্যান্ট কেউ পায়নি। আর ফুল প্যান্ট ও জামার দ্বিতীয় সেট আদৌ পাওয়া যাবে কি না, জানা নেই। এব্যাপারে করিমপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সোমদেব মজুমদার জানান, যে সকল স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে বিডিও অফিস থেকে স্কুলভিত্তিক বাংলার শিক্ষা ওয়েবসাইটে ট্যাগ করে দেওয়া হয়েছে, সেই সকল স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে প্রাইমারি স্কুলের ক্ষেত্রে আমার অফিস থেকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। আর হাইস্কুল বা জুনিয়র হাইস্কুলের ক্ষেত্রে সেই স্কুল ওয়ার্ক অর্ডার দেয়। ব্লক অফিস তাদের কাপড় এবং মজুরি দেয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিনিয়ত রিপোর্ট পাঠিয়েছি। ওঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সব পোশাক দিয়ে দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ