


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ, বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে পারেন। তার আগেই শহরের নাগরিক পরিষেবা ও পুর প্রশাসনের একাধিক সমস্যা নিয়ে তৎপরতা বাড়াল বিজেপি। বুধবার হাওড়া পুরসভায় গিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। বৈঠকে উঠে আসে পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তার আলো, জঞ্জাল অপসারণ, পার্কিং সমস্যা থেকে শুরু করে বেআইনি নির্মাণের প্রসঙ্গ। একইসঙ্গে হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘদিন বোর্ড না থাকা, কর্মী সংকট এবং আর্থিক অনটনের বিষয়টিও প্রধান্য পায় আলোচনায়।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে প্রতিটি বিভাগের আধিকারিকদের কাছ থেকে আলাদা করে তথ্য নেন বিধায়ক। কোন বিভাগে কতজন কর্মী রয়েছেন, কতজন আধিকারিক কাজ করছেন, কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা হয়। আধিকারিকরা বিধায়কের কাছে স্পষ্টভাবেই জানান, দীর্ঘ আট বছর ধরে পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় নতুন নিয়োগ কার্যত বন্ধ। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বহু কর্মী ও আধিকারিক অবসর নিলেও তাঁদের জায়গায় নতুন নিয়োগ হয়নি। ফলে শহরের নাগরিক পরিষেবা কার্যত ধাক্কা খাচ্ছে। এমনকি, তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সমস্যা আরও জটিল হয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
বৈঠকের পর রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘পুর প্রশাসনের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছি। গোটা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। বর্ষার আগে যাতে প্রতি বছরের মতো হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন না হয়, সে দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ নিকাশিনালা পরিষ্কারের কাজ আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন রুদ্রনীল। এছাড়াও হাওড়া পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড গঠন না হওয়া পর্যন্ত শিবপুর বিধানসভা এলাকার ১০টি ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুর আধিকারিকদের নিয়ে পৃথক ওয়ার্ড কমিটি তৈরির কথাও ঘোষণা করেন বিধায়ক। জানা গিয়েছে, কমিটিগুলি এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবে এবং সমাধানের চেষ্টা করবে। নিজস্ব চিত্র