


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গত ৪ঠা মে ফলাফল প্রকাশের পর থেকে নৈহাটি পুরসভায় কাজকর্ম শিকেয় উঠেছিল। ৩৩৭ জন অস্থায়ী কর্মী বেতন পাচ্ছিলেন না। দু’দিন আগে পুরসভায় গিয়ে নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়কে পুরসভায় এসে কাজ করতে বলেছিলেন। অশোক চট্টোপাধ্যায় বিধায়কের সঙ্গে কথা বলে সেই মত বুধবার বেলা বারোটায় পুরসভায় যান। কিন্তু সেকথা জানাজানি হতেই চরম অপদস্থ করা হলো তাঁকে। জনা পঞ্চাশেক বিজেপি কর্মী তাঁর ঘরে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খুব বাজে গালাগাল দেওয়া হয়। তাকে পুরসভা থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। বিক্ষোভকারীদের তিনি বলেন, বিধায়ক বলেছেন বলে আমি এসেছি। বেলা দেড়টা নাগাদ তাঁকে একপ্রকার পুরসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
৭৫ বছর বয়সি টানা ১০ বছরের চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখেছি বিধায়ক বলছেন, চেয়ারম্যান কেন আসছেন না। আমি তাকে জানিয়েই এদিন এসেছিলাম। কিন্তু ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী থাকলাম। যে ভাষায় গালাগাল করা হলো, ভাবতেই শিউরে উঠছি। বাধ্য হলাম বেরিয়ে যেতে। অন্যান্য কাউন্সিলার যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও হেনস্তা করা হয়েছে। সাংসদ পার্থ ভৌমিককে ফোন করেছিলাম, তিনি ফোন ধরেননি। বিধায়ককে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি বললেন, বাইরে আছেন। ২৬ তারিখ ফিরবেন। ২৭ তারিখ সব কাউন্সিলারদের নিয়ে তিনি মিটিং করবেন। এ ব্যাপারে বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, আমি এই মুহূর্তে ডাক্তার দেখাতে বাইরে এসেছি, ২৬ তারিখ ফিরব। ২৭ তারিখ চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসব। তবে তাঁকে মারধরের কথা আমি শুনিনি। কেউ বিক্ষোভ দেখাতে পারেন। ফিরে এসে এনিয়ে খোঁজখবর নেব।