


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হেলমেট ব্যবহার নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য। বারুইপুর পুলিশ জেলায় ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। গত ১০ দিনে (১০ থেকে ২০ মে) তিন হাজারের বেশি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। তাতে ২৫ লক্ষ টাকার বেশি জরিমানার চালান কাটা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বারুইপুর, ক্যানিং, সোনারপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় কড়া নজরদারি করছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা। হেলমেট ছাড়া কেউ যাতে যাতায়াত করতে না পারেন, তার জন্য পদে পদে আইন লঙ্ঘনকারীদের আটকানো হচ্ছে। এতদিন কাকুতি মিনতি করে পার পেয়ে যাচ্ছিলেন অনেকে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ জোর দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। কিন্তু পালা বদলের পর নতুন সরকার আসতেই ট্রাফিক নিয়মকানুন নিয়ে যথেষ্ট কড়া মনোভাব দেখিয়েছে। তার মধ্যে হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা লাগোয়া বারুইপুর পুলিশ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন তটস্থ বাইক চালকরা। ট্রাফিক পুলিশের কর্তব্যরত এক আধিকারিক বলেন, দিনে ২০০ থেকে ৫০০টি বাইক ধরা পড়ছে। কেউ কোনো প্রভাব খাটিয়ে পার পাচ্ছেন না। নিয়ম মেনে যে ফাইন দেওয়ার কথা তা সংশ্লিষ্ট চালকের মোবাইলে মেসেজ আকারে চলে যাচ্ছে। অনেকে স্পটে সেই টাকা মিটিয়ে দিচ্ছেন, আবার একটা বড়ো অংশ পড়ে দেবেন বলে জানাচ্ছেন।
সূত্রের খবর, এই পুলিশ জেলায় ফাইন বাবদ যে ২৫ লক্ষ টাকার বেশি চালান কাটা হয়েছে, তার মধ্যে কেবলমাত্র ১ লক্ষের কাছাকাছি টাকা ঘটনাস্থলে জমা পড়েছে। পুলিশের এতটাই কড়াকড়ি যে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে মূল রাস্তা ধরে দোকানপাট গেলেও হেলমেট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ। কড়া অভিযান চালানোর আগে মাইকিং করা হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলেও। গ্রামের দিকেও বিনা হেলমেটে আর ছাড় পাওয়া যাচ্ছে না। ক্যানিং জীবনতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় কম বয়সিদের মধ্যে হেলমেট ছাড়া বাইক নিয়ে কেরামতি দেখানোর প্রবণতা ছিল। পুলিশের অভিযানে এখন তা অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে চারদিকে যেভাবে ফাইন করা হচ্ছে, তাতে হেলমেট পরে যাতায়াত করার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে বলেও দাবি পুলিশ জেলার আধিকারিকদের।