


সংবাদদাতা, মালদহ: প্রকাশ্য সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের শুরুতে শনিবার প্রণাম জানালেন শিবেন্দুশেখর রায়কে। প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকেও শিবেন্দুশেখর রায়ের একটি বিশাল ফ্রেমে বাঁধানো ছবি উপহার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখে শিবেন্দুশেখরের নাম শুনে নড়েচড়ে বসেছেন অনেকেই। মালদহের এক সময়ের প্রখ্যাত আইনজীবী শিবেন্দুশেখর রায় ছিলেন মালদহের ভারতভুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর ছেলে সুখেন্দুশেখর রায় দীর্ঘদিন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। প্রধানমন্ত্রী এদিন শিবেন্দুশেখর রায়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করায় নতুন করে আলোকপাত শুরু হয়েছে দেশভাগের সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে। সুখেন্দুশেখর রায় এদিন টেলিফোনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাবার কথা বলে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোয় দেশভাগের পরবর্তী কয়েকদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া মালদহবাসীর উদ্বেগ এবং আতঙ্কের বিস্মৃত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হবে। এব্যাপারে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী। একজন সন্তান হিসাবে বাবার কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে শুনে আমি আনন্দিত।
সুখেন্দুর সংযোজন, শিবেন্দুশেখর রায় এবং তাঁর সতীর্থদের সদর্থক ভূমিকার কারণেই যে আজ মালদহ ভারতে তা নিয়ে অনেকেই অবগত নন। নতুন করে এই বিস্মৃত অধ্যায় সামনে আসা উচিত।এক সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একনিষ্ঠ অনুগামী ছিলেন শিবেন্দুশেখর। নেতাজি প্রতিষ্ঠিত অল বেঙ্গল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ছিলেন তিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে তিনি তৎকালীন উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাছাকাছিও আসেন। পরে যোগ দেন হিন্দু মহাসভায়। র্যাডক্লিফ কমিশনের সিদ্ধান্তে মালদহ ও দিনাজপুর পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ব্যারিস্টার এনসি চট্টোপাধ্যায়, আচার্য বিধুশেখর শাস্ত্রী, ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার প্রমুখের সহায়তায় আইনি লড়াই চালিয়ে মালদহের ১৫টি থানার মধ্যে ১০টি থানাকে মালদহে ফিরিয়ে আনেন তিনি। উল্লেখ্য, তৃণমূল পরিচালিত ইংলিশবাজার পুরসভা ইতিমধ্যে শিবেন্দুশেখরের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বেশ কিছু এলাকা ও বাজারের নামকরণ করেছে। ছবি: মলিন দাস