নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও কোচবিহার, সংবাদদাতা, দিনহাটা: বাংলার জন্য বুধবার জোড়া খুশির খবর। বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউয়ের পর দেশে ফিরলেন ভারতীয় চাষি উকিল বর্মনও। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক চালের কাছে মাথানত করতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ। যার ফলস্বরূপ ভারতে ফিরেছেন প্রায় ২০ দিন আগে পাকিস্তানি সেনার হাতে আটক রিষড়ার জওয়ান পূর্ণম। মিটিংয়ের পর তাঁকে আটারি সীমান্ত দিয়ে ফেরানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এদিন সন্ধ্যায় খুশির খবর আসে উকিল বর্মনের পরিবারের কাছেও। বাংলাদেশের আদালত জামিন দেয় তাঁকে। তারপরেই তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য তোড়জোর শুরু হয়। বুধবার রাতে ২৯ দিন পর দেশে ফিরলেন শীতলকুচির উকিল। যদিও খবর লেখা পর্যন্ত বিএসএফ ক্যাম্পেই রয়েছেন তিনি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাড়ি ফিরবেন তিনি।
প্রায় একমাস ধরে বাংলাদেশের জেলে বন্দি ছিলেন উকিল। ১৬ এপ্রিল শীতলকুচিতে কাঁটাতারের ওপারে নিজের জমিতে চাষ করতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই দেশে অনুপ্রবেশের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তখন থেকেই ওই দেশের জেলে বন্দি ছিলেন উকিল। বিএসএফের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন উকিলের পরিবার। রাজ্য পুলিসের উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ যাদবের নেতৃত্বে শীর্ষ পুলিস কর্তারাও তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াও উকিল বর্মনের বাড়িতে যান। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হোন।
মুখ্যমন্ত্রী উকিল বর্মনের ঘটনা সম্পর্কে এদিন বলেন, আমাদের একজনকে সীমান্ত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও সে নিজের জমিতে কাজ করছিল। আমি মুখ্যসচিবকে বলব যথাযোগ্য জায়গায় এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে। যারা ধরিয়েছে তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করেছি। যারা ধরিয়েছে তারা ঘরের শত্রু বিভীষণ। এর বেশি কিছু আর বলব না। তুলে দিয়েছে কারা সেটা খোঁজ নিয়ে দেখুন।
উকিলের ফেরার খবরে খুশি তাঁর স্ত্রী সব্যবালা বর্মন। তিনি বলেন, দিনের বেলা ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে নিয়ে যায় স্বামীকে। বুধবার বাংলাদেশের আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছে। ভারতেও ফিরেছে বলেও প্রতিবেশীরা জানিয়েছে। এখন ওঁর বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করছি।
তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহারের সংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, রাজবংশী চাষি উকিল বর্মনের পরিবারকে আমরা আর্থিকভাবে সহায়তা করেছিলাম। তা দিয়েই বাংলাদেশে আইনজীবী জোগার করা হয়েছিল। কেন্দ্রের তরফে কোনও সাহায্য করা হয়নি।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, উকিল বর্মনের বিষয়টি আমি মন্ত্রিসভায় বলেছি। মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। রাতে মুখ্যমন্ত্রী আমাকে জানান, উকিল বর্মনকে বিএসএফ’কে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বিএসএফ রাজ্য পুলিসের হাতে তুলে দেবে। নিজস্ব চিত্র।