সংবাদদাতা, হলদিয়া: বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের যেভাবে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, তা আমাদের গায়ে লাগছে। গরিব মানুষকে এভাবে অপমান করা ঠিক নয়। বুধবার হলদিয়ায় একথা বলেন প্রথিতযশা কথা সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান শীর্ষেন্দুবাবু। এদিন কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠের ৬৯তম জন্মবার্ষিকীর স্মরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের যেভাবে লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে তা ভালো লক্ষ্মণ নয়। তাঁদের এভাবে হেনস্তা, শাস্তি দেওয়া, বাঙালি হিসেবে আমাদের কাছে খুবই অবমাননাকর। যারা সত্যিকারের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তাদের কথা আলাদা। এর প্রতিবাদ করতে হবে। ফলাফল কী হবে, সেকথা ভেবে লাভ নেই। এখন রুখে দাঁড়াতে হবে বাঙালিকে। ভারতবর্ষের যে কোনও জায়গায় বাঙালি যেতে পারে। সেখানে গিয়ে হেনস্তার শিকার হলে সম্মিলিত প্রতিবাদ করতে হবে।
এদিন কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট মানুষজন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর কোনও আঘাত এলে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। হলদিয়ার দুর্গাচকে কুমারচন্দ্র জানা অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠান হয়। তমালিকা পণ্ডাশেঠের কবিতার গানেই সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। কবিতার বৃন্দগান পরিবেশন করেন আইকেয়ার কালচারাল অ্যাকাডেমি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রাক্তন সাংসদ ও আইকেয়ার শিক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান লক্ষ্মণচন্দ্র শেঠ বলেন, আমাদের আয়ু নির্ধারিত, সেই সময়ের মধ্যে মানুষের জন্য মানুষকে ভালোবেসে কাজ করতে হবে। তমালিকা রাজনীতি, প্রশাসনিক কাজের ফাঁকে নিভৃতে কবিতা চর্চা করত। তার সৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখতেই এই উদ্যোগ। সমাজের বিশিষ্ট মানুষজনের সঙ্গে আত্মিক যোগ তৈরি করতেই তাঁদের সম্মান জানানোর চেষ্টা করি আমরা।
স্মরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এদিন বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য, রাজনীতি, ক্রীড়াক্ষেত্রের বিশিষ্ট মানুষজনের উপস্থিতিতে নক্ষত্র সমাবেশ হয়েছে মঞ্চে। এদিন ২০২৫সালের কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠ নামাঙ্কিত জীবনকৃতী পুরস্কার পেলেন কবি জয় গোস্বামী, সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা, অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশক সুধাংশুশেখর দে। পুরস্কারের অর্থ মূল্য এক লক্ষ টাকা। সংবাদ সাপ্তাহিক আপনজন ও আইকেয়ার-এর যৌথ উদ্যোগে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বিশিষ্টজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন লক্ষ্মণবাবু ও শীর্ষেন্দুবাবু। উপস্থিত ছিলেন আইকেয়ারের সম্পাদক আশিস লাহিড়ি, আপনজন পত্রিকার প্রকাশক সায়ন্তন শেঠ, সম্পাদক সুদীপ্তন শেঠ, আইকেয়ার সংস্থার স্পর্শিতা পণ্ডাশেঠ, মানসী দে শেঠ প্রমুখ। এদিন অনুষ্ঠানে সোনালি মুহূর্ত তৈরি হয় হৈমন্তী শুক্লার গানে। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথায় মাত করেন পরাণবাবু। কবি জয় গোস্বামীর কবিতা ও উপন্যাস লেখার নানা গল্প শুনে মুগ্ধ হন শ্রোতারা। এদিন হলদিয়া উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় কর কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠের কবিতা ও হলদিয়ার উন্নয়ন নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।-নিজস্ব চিত্র