সমীর সাহা নবদ্বীপ
সমীর সাহা নবদ্বীপ
নবদ্বীপের গ্রামীণ এলাকার পুজোর মধ্যে অন্যতম মহেশগঞ্জের বাগানেপাড়া নবজাগরণ স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গোৎসব। প্রতিবছর পুজোয় দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেন এই পুজো উদ্যোক্তারা। এবছর তাঁদের দুর্গাপুজো ৫৮তম বর্ষে পড়েছে। কাল্পনিক জাহাজের আদলে ৫০ফুট উঁচু পুজো মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। সেই জাহাজের ভিতর দুর্গাপ্রতিমা থাকবে। প্রতিমার শাড়ি, অলঙ্কার সবই মাটি দিয়ে তৈরি হবে। পুজো মণ্ডপ থেকে ক্লাব লাগোয়া পার্ক অবধি আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হবে।
প্রতিবছরই পঞ্চমীতে এই পুজোর উদ্বোধন হয়। অষ্টমীর দিন বিশেষ ভোগে খিচুড়ি, পুষ্পান্ন, পরমান্ন, ও ফল দেওয়া হয়। ক্লাবের সদস্যরা প্রায় ১৩০০ পাড়াপড়শির বাড়ি বাড়ি সেই প্রসাদ পৌঁছে দেন। নবমীতে দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হয়। দশমীতে প্রথা মেনে চিঁড়ে, খই, মুড়কি, দই, মিষ্টি নিবেদন করা হয়। দশমীর দু’দিন পর রবিবার মহিলা ঢাকি ও নানা বাদ্যযন্ত্র সহ শোভাযাত্রা করে জলঙ্গি নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।
পুজো কমিটির সম্পাদক রাজু দেবনাথ ও কোষাধ্যক্ষ রাজকুমার দেবনাথ বলেন, প্রতিমা আনা, বাজারহাট, চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকেন চিন্টু দেবনাথ, শ্রীধাম দেবনাথ, তাপস সরদার, বাপি দেবনাথ ও সৌরভ দেবনাথরা। এলাকার মহিলারাই পুজোর সমস্ত আয়োজন করেন। পুজো কমিটির যুগ্ম সহ-সভাপতি কল্যাণ দেবনাথ ও অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ক্লাবের প্রায় ৩০জন সদস্য স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেন। ক্লাব সম্পাদক ভজন দেবনাথ বলেন, আমরা পূজা মণ্ডপে আগুন নেভানোর সমস্ত ব্যবস্থা রাখি। সমস্ত সরকারি নিয়ম ও বিধিনিষেধ মানা হয়। প্রতিমা, পুজো মণ্ডপ ও সুন্দর পরিবেশের জন্য আমরা প্রতিবছর সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কৃত হই।
ক্লাব ও পুজো কমিটির সভাপতি সত্যম দেবনাথ বলেন, সরকারি অনুদান পাচ্ছি বলেই এই পুজো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে। সেজন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। পুজোর ষষ্ঠীর দিন ক্লাব সদস্য নিমাই চক্রবর্তী প্রায় ২০০জন দুঃস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।