সংবাদদাতা, কাঁথি: ‘সবেধন নীলমণি’ একমাত্র চিকিৎসক ছিলেন জ্যোতির্ময় সাহা। তিনি অবসর নেওয়ার পর চিকিৎসক শূন্য হয়ে গেল ভগবানপুর-২ ব্লকের শিমুলিয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর ফলে এখানে পরিষেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। গত ৩১ জানুয়ারি চিকিৎসক তথা মেডিকেল অফিসার জ্যোতির্ময়বাবু অবসর গ্রহণ করেন। যিনি দীর্ঘ ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরবিছিন্ন এবং অক্লান্তভাবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলাকার মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে এসেছেন। গত ৮ফেব্রুয়ারি তাঁকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সেখানে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ জানা, সংশ্লিষ্ট বরোজ পঞ্চায়েতের প্রধান উৎপলকান্তি জানা, প্রাক্তন উপপ্রধান মিহির ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর সংশ্লিষ্ট বরোজ ও পার্শ্ববর্তী অর্জুননগর পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন নির্ভরশীল। বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আউটডোর পরিষেবা চলছে। রয়েছেন তিনজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন গ্রুপ-ডি স্টাফ, একজন চুক্তিভিত্তিক সুইপার। চিকিৎসক না থাকায় এখন তাঁরাই স্বাস্থ্যকেন্দ্র সামলাচ্ছেন। যদিও ইতিপূর্বে বছরদুয়েক আগে আরও একজন চিকিৎসক নিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সায়ন নস্কর নামে ওই চিকিৎসককে পরবর্তীকালে মুগবেড়িয়ায় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে জ্যোতির্ময়বাবুই সবকিছু সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের অবসরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র একপ্রকার ‘অভিভাবকহীন’ হয়ে গেল। সেইসঙ্গে পরিষেবা নিয়েও তাঁদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানে ১০টি বেডের ইনডোর ভবন রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সেখানে ইনডোর পরিষেবাও দেওয়া হতো। কোনও ইমারজেন্সি রোগী ভর্তি হলে তাঁকে চিকিৎসা করা হতো। কিন্তু চিকিৎসক শূণ্য হয়ে যাওয়ায় সেই পরিষেবাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। তবে বড় কিছু হলে এলাকার বাসিন্দাদের ভরসা সেই মুগবেড়িয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল। তবে এলাকাবাসী চাইছেন, এখানে যেমন পরিষেবা দেওয়া হতো, সেভাবেই দেওয়া হোক। তারজন্য যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসক নিয়োগ করা হোক। পাশাপাশি আগামীদিনে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মধ্য দিয়ে ইনডোর পরিষেবাকে ঢেলে সাজানোর দাবিও তাঁদের রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা, পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান মিহিরবাবু বলেন, জ্যোতির্ময়বাবু এতদিন ধরে দুটি পঞ্চায়েতের বড় অংশের মানুষকে পরিষেবা সামলে আসছিলেন। এলাকার মানুষের বড় ভরসা ছিলেন তিনি। খুব ভালো পরিষেবা দিতেন জ্যোতির্ময়বাবু। তাঁর হাত ধরে প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যথেষ্ট ভালোভাবে চলছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাতে হলে তো চিকিৎসক থাকা দরকার। আমরা চাই, দ্রুত এখানে চিকিৎসক নিয়োগ করা হোক। এবিষয়ে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসিতকুমার দেওয়ান বলেন, দ্রুত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নিযুক্ত করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।