নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: শান্তিপুর ব্লক তো বটেই, রানাঘাট মহকুমাতেও এত বেহাল রাস্তা বিরল। সেইসঙ্গে রয়েছে তীব্র পানীয় জলের সংকট। এর জেরেই কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছেন নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের বেলঘড়িয়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দোলতলা ও রামলক্ষ্মীতলার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে এলাকায় বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। খোদ প্রধানকে ঘেরাও করা হয়। শেষমেশ প্রধানের থেকে দ্রুত রাস্তা সারানোর মুচলেখা নিয়ে অবরোধ তোলেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় কুড়ি বছর। বহুবার পঞ্চায়েতের কুর্সিবদল হয়েছে। অথচ এলাকার প্রধান রাস্তার সংস্কার হয়নি। শেষ কবে গ্রামে পাকা রাস্তা হয়েছিল, অনেক ভেবে মনেই করতে পারছেন না । এদিকে, বেহাল রাস্তার জন্য প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। বৃষ্টির মরশুমে তো এই রাস্তা মরণফাঁদে পরিণত হয়। রাস্তাজুড়ে থাকা গর্তগুলি যেন ছোট ডোবা হয়ে যায়। এই এলাকায় পর্যাপ্ত আলো ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয় মূল রাস্তা পর্যন্ত। কারণ বেহাল এই রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না। বাসিন্দাদের সাফ কথা, দীর্ঘদিন স্থানীয় পঞ্চায়েত, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও শান্তিপুরের বিধায়কের কাছে অভিযোগ জানিয়েও সমাধান মেলেনি। অগত্যা এদিন বিক্ষোভের মাঝে একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ ও ভোট বয়কটের ডাকও দেন বাসিন্দারা।
এদিকে, অবরোধ চলাকালীন ঘটনাস্থলে শান্তিপুর থানার পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। যদিও স্থানীয় প্রধান বাসন্তী বসাকের লিখিত আশ্বাসের পরেই জনরোষ ঠান্ডা হয়।
শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, রাস্তার অবস্থা সত্যিই খারাপ। সংস্কারের জন্য ‘পথশ্রী’ প্রকল্প ও ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’-এর অধীনে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে, বিজেপি পরিচালিত শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, মুখেই উন্নয়ন চলছে। যার বাস্তব উদাহরণ শান্তিপুরের ওই বেহাল রাস্তা। তৃণমূল সরকারের এই উন্নয়নের দাবি যদি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে আমরা এলাকাবাসীর পাশে থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।