সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: পুরসভায় লোকবলের অভাব রয়েছে। তাই রাতারাতি শিলিগুড়ি শহরের ভোলবদল সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা করে ধাপে ধাপে সংস্কারের কাজ করা হবে। শনিবার বিধান মার্কেট এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
এদিন মূলত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির কাজ খতিয়ে দেখতে তিনি বিধান মার্কেট, বিধান রোড ও বাজার সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিলিগুড়ি পুরসভার কমিশনার বীরবিক্রম রাই। রাস্তার ধারের নিকাশি ব্যবস্থা এবং নালাগুলির পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বেশকিছু জায়গায় নিকাশি নালার উপর কংক্রিট ঢালাই করা হয়েছে। ফলে জল ঠিকমতো বের হতে পারছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে শংকর ঘোষ বলেন, বর্ষার মরশুমে এখন থেকেই সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা প্রয়োজন। পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঠিকমতো কাজ করছেন কি না, তা নজরে রাখার জন্য কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, এদিন বিধান রোডে রেলওয়ে সিটি বুকিং অফিসের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অর্ধনির্মিত পরিত্যক্ত নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সেটিকে বহুতল নির্মাণের জন্য ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গত শুক্রবার এসজেডি-র বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডকে পার্কিং জোন হিসাবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও শুরু হল এদিন থেকে। গাড়ি ঢোকা ও বেরোনোর সুবিধার জন্য দেওয়াল ভেঙে গেট বড়ো করা হয়েছে। আজ, রবিবার পর্যটনমন্ত্রী এলাকা পরিদর্শন করে পার্কিং ব্যবস্থার ট্রায়াল দেখবেন বলে জানা গিয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রধান রাস্তায় পার্কিংয়ের জন্য সাম্প্রতিক টেন্ডার বাতিল হওয়ার পরও পুরনো স্লিপ ব্যবহার করে অবৈধভাবে পার্কিং ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে এসেছে। মন্ত্রী বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করছে, তাদের বিরত থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে কিছু প্রশাসনিক সমস্যা থাকতে পারে। তবে নিয়ম মেনে নতুন করে টেন্ডার করা হবে এবং পার্কিং লটগুলিকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো হবে।
শংকর ঘোষ আরও বলেন, শহরের যানজট কমাতে পার্কিং ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা জরুরি। কেউ যদি এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে পার্কিং ফি আদায় চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।