নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সরকারি অধিকারিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক করে অনেককে এপিকে ফাইলের লিংক পাঠানো হচ্ছে। ওই ফাইলের উপর ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা সংক্রান্ত বিষয় সাইবার প্রতারক লিখে রাখছে। উদ্বেগের বশবর্তী হয়ে যাতে ওই ফাইল সবাই ডাউনলোড করে তার জন্যই প্রতারকরা ওই কৌশল অবলম্বন করেছে বলে পুলিশ মনে করছে।
বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এতদিন অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনো ফাইল বা লিংক মোবাইলে ডাউনলোড না করার ব্যাপারে আমরা জেলাবাসীকে সচেতন করেছি। কারণ তা করলে টাকা খোয়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়। এখন পরিচিত নম্বর থেকেও হঠাৎ ফাইল বা লিংক এলে তা এড়িয়ে চলার জন্য বলা হচ্ছে। বিষয়টি সকলকে মাথায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকমাস আগে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করে এক অবসরপ্রাপ্ত বিএসএনএল কর্তা সর্বস্বান্ত হন। অবসর নেওয়ার পর জেলার বাসিন্দা ওই বিএসএনএল কর্তা মোটা টাকা পেয়েছিলেন। তার মধ্যে বেশ কিছু টাকা তাঁর দু’টি সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা ছিল। তিনি কোনো কাজ করার জন্য টাকা অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রাখেন। ব্যাংকের নাম করে সাইবার প্রতারকরা তাঁকে একটি এপিকে ফাইলের লিংক পাঠিয়েছিল। তা ডাউনলোড করা মাত্র সব টাকা গায়েব হয়ে যায়।
কীভাবে প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নেয়? উত্তরে তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অনলাইন লেনদেনের জন্য বর্তমানে প্রায় সব ব্যাংকেরই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ রয়েছে। ব্যাংকে যাওয়ার ঝক্কি এড়াতে তা গ্রাহকরা নিজ নিজ মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখেন। এপিকে ফাইল ডাউনলোড করা মাত্র গ্রাহকের মোবাইল সেটের নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে যায়। ফলে একবার তাদের কথামতো ওইসব অ্যাপের পিন নম্বর বা কোড টাইপ করামাত্র তারা দ্রুত অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নিতে সক্ষম হয়। এভাবেই ফাইল অথবা লিংক পাঠিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটে। গ্রাহকরা সচেতন হওয়ার ফলে এখন আর প্রতারকরা ব্যাংকের নাম করে ফোনে এটিএমের পিন নম্বর বা অন্যান্য তথ্য জানতে চায় না। পরিবর্তে সরাসরি মোবাইল ফোনের কন্ট্রোল নিয়ে প্রতারণা করে। সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এখন অচেনা নম্বর থেকে লিংক বা ফাইল এলে অনেকেই ডাউনলোড করেন না। ফলে সাইবার প্রতারকরা প্রথমে জনপ্রতিনিধি বা আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করছে। পরে তাঁর মোবাইলে থাকা সব যোগাযোগের নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে যানবাহন নেই এমন অনেকের কাছে ট্রাফিক আইনভঙ্গ সংক্রান্ত জরিমানার ফাইল যাওয়ায় প্রতারকদের পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসায় বাকিরাও সজাগ হয়ে গিয়েছেন।