সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: কোনো নাবালিকাকে কেউ ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেলে এতদিন পুলিশ অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্তে নামত। পরকীয়া করে কোনো গৃহবধূ যুবকের সঙ্গে চম্পট দিলে ওই বধূর বিরুদ্ধেও এবার অপহরণের মামলা করার সুযোগ রইল। যুবকের পরিবারের লোকজন বধূর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করতে পারে। এমনই নয়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। অপহরণের মামলা হলে সেটা দ্রুত তদন্তে নামার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতদিন কোনো যুবক বা গৃহবধূ উধাও হয়ে গেলে নিখোঁজ ডায়েরি করে পুলিশ খোঁজ করত। এবার থেকে এসব ক্ষেত্রে অপহরণের মামলা হবে। যুবক-যুবতী যে কারো পরিবারের লোকজন মামলা করতে পারেন। কোনো যুবক বা নাবালক নিখোঁজ হলে তাদের উদ্ধার করার জন্য পুলিশকে সব রকম চেষ্টা করতে হবে।
এক আধিকারিক বলেন, আগামী দিনে অপহরণের মামলা বেড়ে যাবে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রাপ্ত বয়স্ক যুবক বা যুবতী নিজের ইচ্ছেতেই কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বহু গৃহবধূও পরকীয়ায় মজে ঘর ছাড়েন। থানায় মিসিং ডায়রি হলে পুলিশ তাঁদের ছবি বিভিন্ন জায়গায় দিয়ে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন। এবার থেকে সেটা হচ্ছে না। যুবক বা গৃহবধূকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগ হলে অপহরণের মামলায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সম্প্রতি গৃহবধূদের ঘর ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে অপহরণের মামলা অনেক বেড়ে যাবে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পুরনো মামলাগুলিও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে কোনো অপরাধমূলক ঘটনায় চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সব কেসে নির্দিষ্ট সময়ে চার্জশিট জমা দেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জের। অধিকাংশ থানায় পুলিশ আধিকারিকের সংখ্যা কম রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নতি না হলে আগের সরকারের মতো অনেক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। আগের সরকার থানায় শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক অ্যাপ চালু করেছিল। সিভিকদের হাজিরা দেওয়ার জন্য আলাদা অ্যাপ চালু করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকাঠামো ঠিক না থাকায় তা বেশি দিন এগোয়নি। একইভাবে নতুন সরকার পরিকাঠামো ঠিক না করে বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেগুলি কতটা সাফল্য পাবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক যুবক, যুবতী বা গৃহবধূরা নিজেদের সিদ্ধান্তেই ঘর ছাড়েন। সেক্ষেত্রেও পরিবারের লোকজন অপহরণের মামলা করতে পারেন। এতে কেস করলে জটিলতা বাড়বে। অপহরণের মামলা আদালতে গিয়ে আদৌও টিকবে কি না সংশয় রয়েছে। কিছুক্ষেত্রে অবশ্য পরকীয়ায় মজে থাকা গৃহবধূরা সমস্যায় পড়তে পারেন। ডির্ভোস না দিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছাড়লে অপহরণের মামলায় তাঁকে শ্রীঘরে যেতে হতে পারে।