তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: গত পাঁচ বছরে সংবাদমাধ্যমে বক্তৃতা দেওয়া ছাড়া মানুষের জন্য কোনো কাজই করেননি শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ। এভাবেই চাঁচাছোলা ভাষায় গেরুয়া বিধায়ককে তুলোধোনা করলেন একদা তাঁর রাজনৈতিক গুরু অশোক ভট্টাচার্য। বছর পাঁচেক আগেও শিলিগুড়ির রাজনীতিতে শংকরকে সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা অশোকবাবুর মানসপুত্র বলা হতো। সিপিএমের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলিতে শংকরকে সঙ্গে নিয়েই লড়াইয়ের ময়দানে দেখা যেত বর্ষীয়ান এই নেতাকে। সেসব এখন অতীত।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পদ্ম পার্টিতে নাম লেখান সিপিএমের এই প্রাক্তন তরুণ তুর্কী নেতা। এমনকী সবাইকে চমকে দিয়ে গুরুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়েও নেমে পড়েন শংকর। ২০ বছরের মন্ত্রী তথা একদা শিলিগুড়ির মেয়র অশোককে রাজনৈতিক শিষ্যের কাছে হার স্বীকার করতে হয়। এরপর মহানন্দা নদী দিয়ে প্রচুর জল গড়িয়েছে। দু’জনের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলেছে। তবে একে অপরের বিরুদ্ধে সেভাবে আক্রমণাত্মক হতে দেখা যায়নি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অশোক নীরবতা ভাঙলেন। গত পাঁচ বছরে শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের জন্য শংকর কী করেছেন? সরাসরি সেই প্রশ্ন তুললেন।
অশোকবাবু বলেন, গত পাঁচ বছরে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া ছাড়া শিলিগুড়ির উন্নয়নের জন্য কোনো কাজই করেননি বিজেপি বিধায়ক। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির হিন্দুত্ব ও পৃথক রাজ্যের টোপের হাওয়ায় আমি হেরেছিলাম। তবে বর্তমানে পাহাড় হোক বা উত্তরবঙ্গ, সর্বত্রই বিজেপির ভাঁওতা ধরে ফেলেছে মানুষ। উন্নয়নের বিচারে নির্বাচন হলে কোথাও কোনো বিজেপি সাংসদ বা বিধায়ক জিততে পারবেন না। আসলে বিজেপি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু চিন্তাই করে না।
যদিও প্রাক্তন গুরু সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শংকর। তাঁর কৌশলী জবাব, অশোকবাবুর বক্তব্য নিয়ে আমি কোনো কথা বলব না। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি কী কাজ করেছি মানুষ তা ভালো জানে।
প্রাক্তন মেয়রের কথায়, আমি ভালো বক্তব্য রাখতে না পারলেও মানুষের জন্য কাজ করেছি। সেকারণে বর্তমানে আমি কোনো জনপ্রতিনিধি না হওয়া সত্ত্বেও মানুষ আমাকে দেখলে কাছে এসে কথা বলতে চায়, পরামর্শ চায়। আমি সাধ্যমতো তাঁদের পরামর্শ দিই।