নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দলের অন্দরে তোলাবাজি চলছে। কয়েক দিন আগেই এক প্রকাশ্য কর্মসূচিতে এমনই মন্তব্য করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও থামেনি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন অভিযোগ কমবেশি আসছে বিজেপির কর্তাদের কাছে। এর মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় বিজেপির এক বুথ সভাপতির বিরুদ্ধে এক লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বুথ সভাপতি।
ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চ্যাংদানা এলাকার ১৫৪ নম্বর বুথ এলাকায়। বিতর্কের মুখে বিজেপির বুথ সভাপতি সুনীল দাস। অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম সরকার। রবিবার তিনি দেগঙ্গা থানায় সুনীল দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে চ্যাংদানা এলাকায় চার শতক জমি কিনেছিলেন গৌতমবাবু। সম্প্রতি সেখানে বাড়ি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেন। সেকারণে জমিতে যে সব গাছ ছিল, তা কাটার কাজ চলছিল। অভিযোগ, সেই সময় সুনীল দাস ও তাঁর অনুগামীরা ওই জমিতে হাজির হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। গৌতমের অভিযোগ, তাঁকে বলা হয়, এক লক্ষ টাকা দিলে তবেই কাজ করতে দেওয়া হবে। অন্যথায় তাঁদের কাছে ওই চার শতক জমি বিক্রি করে দিতে হবে দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা হয়। গৌতমবাবু বলেন, এ নিয়ে পরে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। পাশাপাশি বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।
যদিও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ সুনীল দাস। তাঁর দাবি, গৌতমের স্ত্রীর নামে যে জমি কেনা হয়েছে, তার কোনো ডিমারকেশন নেই। একটি বড়ো সম্পত্তির চার শতক জমি কেনা হলেও অন্য শরিকদের অভিযোগ, গৌতম বেছে বেছে জমির ভালো অংশ দখল করে নিয়েছেন। সেই কারণেই শরিকদের মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়েছিল। তাঁরা আমার কাছে এনিয়ে অভিযোগ করেন। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে, গৌতম সরকার পালটা বলেন, যেখানে তিনি বাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই জমির ডিমারকেশন সরকারি নথিতেই স্পষ্ট। তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসতেই তা আড়াল করতে নতুন নতুন গল্প বলা হচ্ছে। সেইসঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত অংশে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতা সুনীলের অভিযোগ, গৌতম ভুয়ো নথি তৈরি করেছেন। অতীতেও অসাধু উপায়ে তিনি এমন একাধিক কাজ করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই সেই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে। নিজস্ব চিত্র