লখনউ, ২৩ সেপ্টেম্বর: যোগীরাজ্যে ফের এনকাউন্টার। পুলিশের গুলিতে নিহত আজমগড়ে স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং সন্তানদের পণবন্দি করে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত অরবিন্দ সিং। অভিযোগ, অরবিন্দ তার সন্তানদের খুনের হুমকি দিচ্ছিল। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টার টানটান নাটক। চলে সংঘর্ষ।
বাড়িতে অলৌকিক শক্তি রয়েছে, তাই চারদিন ধরে চলছিল পুজো! মঙ্গলবারও অরবিন্দ বাড়ি ফিরে দেখে তার বাড়িতে পুজো চলছে। এবং পুলিশ সূত্রের খবর, পুরোহিতদের আধার কার্ড দেখাতে বলে অরবিন্দ এবং জেরাও শুরু করে। এরপরেই পুরোহিতদের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বচসা। অভিযুক্ত তার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তার স্ত্রী ববিতা এবং দুই পুরোহিত।
তবে এরপরেও থেমে থাকেনি সে,৩ জনকে খুন করার পরে সে তার ৩ সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে যায় এবং দরজা আটকে দেয়। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এবং ক্রমশ পরিস্থিতি বেহাল হতে থাকে। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অরবিন্দের মানসিক অবস্থা কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক ছিল। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, কোনোভাবেই কথা শুনছিল না অরবিন্দ, বের হতে চাইছিল না ঘর থেকে এবং সকালে কথা বলবে বলেই বারবার জানাচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ডাকা হয় অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস)-কে। বিকল্প কৌশল তৈরি করতেই অরবিন্দ ঘরের ভেতর থেকে গুলি চালাতে থাকে।
এডিজি বলেন, ঘরের ভেতর ৩ শিশু আটকে পড়েছিল। অরবিন্দ গুলি চালানো শুরু করার পর পুলিশের কাছে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। সঙ্গে সঙ্গে দরজার লক ভেঙে ভেতরে ঢোকে কমান্ডো বাহিনী। পুলিশের সঙ্গে মিলে শুরু হয় অভিযান। পুলিশ ঘরে প্রবেশ করতেই অরবিন্দ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। জবাবে পুলিশও আত্মরক্ষায় গুলি চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। আহত শিশুদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও বাকি দু’জন এখন বিপদমুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।