সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: প্রচণ্ড স্রোতে গ্রামে হু হু করে ঢুকছিল জলঢাকা নদীর জল। দুর্গতদের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে তাঁদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন ময়নাগুড়ির বেতগাড়ার শম্ভু সরকার। গ্রামবাসীদের নিজের বাড়ির ছাদে ঠাঁই দেন তিনি। তাই এখন সকলের নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন শম্ভু। স্ত্রী কল্পনা ও ছেলে সুশান্তও এই কাজে শম্ভুকে সহযোগিতা করেছিলেন। নিজের ঘরে জল ঢুকে দামি জিনিসপত্র ক্ষতি হলেও গ্রামবাসীদের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসায় সরকার পরিবারকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে।
বেতগাড়ার হরিভিটার বাসিন্দা শম্ভুবাবুর ছেলে সুশান্তর বিয়ে ঠিক হয়েছে শিলিগুড়িতে। মাঘ মাসে বিয়ে। ঘরে থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকা বানের জলে ভেসে গিয়েছে। নতুন ঘর তৈরির জন্য মজুত করা সিমেন্ট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাইকও ক্ষতি হয়েছে। জল তোলার মোটর নষ্ট হয়েছে। কিন্তু মানুষকে বাঁচাতেই ছুটে গিয়েছিলেন শম্ভু, কল্পনা ও সুশান্ত। নতুন ঘরের ছাদ হয়ে গিয়েছে। সেই ছাদেই একের পর এক গ্রামবাসীকে তুলেছেন তাঁরা।
শম্ভু সরকার বলেন, আমাদের বাড়ির যে উচ্চতা তার অর্ধেকের বেশি জল উঠে গিয়েছিল। কোলে করে বাচ্চাদের নিয়ে এসেছিল গ্রামের প্রচুর মানুষ। এদের মধ্যে বয়স্ক মহিলাও ছিল। মই এনে একেএকে সকলকে ছাদে তুলে আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের পরিবারের সকলেই ওই সময় ওঁদের সহযোগিতা করেছেন।
এলাকার বাসিন্দা দীপ্তি সরকার বলেন, আমাদের বাড়ির সদস্যরা সরকার বাড়ির ছাদে উঠে কোনওরকম প্রাণরক্ষা করি। অঞ্জনা সরকার বলেন, আমার দুই সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়ির ছাদে না উঠলে হয়তো ভেসে যেতাম। তাই শম্ভুবাবুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অঞ্জনা। একই কথা বলেছেন, রুমা সরকার। বলেন, শম্ভুবাবুকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিজের বিপদের কথা না ভেবে উনি আমাদের জন্য মই নিয়ে এসে ছাদে তুলে আশ্রয় দিয়েছেন। আমাদের পরিবারের দু’জন শিশু সহ আটজন ওই বাড়ির ছাদে জল না নামা পর্যন্ত থেকেছি। বাষট্টি বছরের রিনা সরকার বলেন, শম্ভু সহায়তা না করলে বানের জলে ভেসেই যেতাম। নিজস্ব চিত্র