Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাঁসখালি ব্লকে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ভিত্তিহীন

বিরলতম, অভূতপূর্ব— এই দু’টি শব্দে বর্ণনা করা যায় সম্প্রতি রানাঘাট বিশেষ পকসো আদালতে চলা একটি মামলাকে।

হাঁসখালি ব্লকে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ভিত্তিহীন
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: বিরলতম, অভূতপূর্ব— এই দু’টি শব্দে বর্ণনা করা যায় সম্প্রতি রানাঘাট বিশেষ পকসো আদালতে চলা একটি মামলাকে। ওই পকসো মামলায় অভিযুক্ত এক প্রধান শিক্ষককে নিঃশর্ত মুক্তি দিল আদালত। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কেন আইনি পদক্ষেপ করা হবে না, জানতে চেয়ে তাঁকে শোকজ করেছে আদালত। এই মামলা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে জেলায়। নদীয়া জেলার হাঁসখালি ব্লকের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্তত দশজন ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। অভিযোগ করেছিলেন ওই স্কুলেরই এক শিক্ষিকা। ওই শিক্ষিকাকে মিথ্যা অভিযোগ করার কারণে রানাঘাটের পকসো আদালত শোকজ করেছে। এই ধরনের ঘটনা এযাবতকালে বিরল বলেই মত আইনজীবীদের। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে রানাঘাট আদালতে একটি পকসো মামলা দায়ের করেন হাসখালি ব্লকের সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অন্তত দশ জন নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে হাসখালি থানার পুলিশ। তদন্তের সময়ে পড়ুয়া, অভিভাবক এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে দশজন নাবালিকা ছাত্রীকে আদালতে হাজির করিয়ে তাদের গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সূত্রের দাবি, ওই ছাত্রীরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযোগে উল্লিখিত ওই ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। পুলিশের জমা দেওয়া তদন্ত রিপোর্ট এবং ছাত্রীদের বয়ান খতিয়ে দেখে আদালত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এদিকে, মামলা চলাকালীন অভিযোগকারী শিক্ষিকা আদালতে হাজিরই হননি। সেই বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত। শেষ পর্যন্ত রানাঘাটের বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক সৌমেন গুপ্ত প্রধান শিক্ষককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এরপরেই মামলা তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নেয়। আদালত জানায়, পকসো আইনের আওতায় মিথ্যা অভিযোগ আনা গুরুতর বিষয়। সেই কারণেই অভিযোগকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের আইনজীবী সুমন রায় বলেন, তদন্তেই প্রমাণ হয়েছে আমার মক্কেল নির্দোষ। অভিযোগকারী শিক্ষিকার থেকে জবাব তলব করেছে আদালত। অন্যদিকে, এ নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ