Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালক, কিশোরদের উপরও বাড়ছে যৌন নির্যাতন, প্রতিরোধে শিক্ষকদের কর্মশালা

শুধু নাবালিকা নয়, কিশোররাও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষে঩ত্রেই তারা মুখ ফুটে তা নিয়ে কারও কাছে অভিযোগ করতে পারে না।

নাবালক, কিশোরদের উপরও বাড়ছে যৌন নির্যাতন, প্রতিরোধে শিক্ষকদের কর্মশালা
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান:  শুধু নাবালিকা নয়, কিশোররাও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষে঩ত্রেই তারা মুখ ফুটে তা নিয়ে কারও কাছে অভিযোগ করতে পারে না। তাই স্কুলগুলিতে ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ নিয়ে তাদেরও অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। মঙ্গলবার বর্ধমানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের শিশু সুরক্ষা দপ্তরের চেয়ারম্যান তুলিকা দাস বলেন, কিশোরীদের মতো বিভিন্ন সময় কিশোরদেরও যৌন নির্যাতন করা হয়। এধরণের ঘটনা বন্ধ করতে পড়ুয়াদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে। তারা যেন মনের কথা শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের কাছে বলতে পারে। সাধারণত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়ির লোকজনদের থেকেও তারা বেশি বিশ্বাস করে। 

Advertisement

মঙ্গলবার বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে ‘মেন্টাল হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ইন স্কুল’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অল্প বয়সীদের মনের কথা কিভাবে বোঝা সম্ভব হবে, তা নিয়েই মূলত টিপস দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপর নির্ভর করে। তাঁরা সব থেকে বেশি পড়ুয়াদের কাছে যেতে পারেন। পড়ুয়াদের মনে কী চলছে, সেটা তাঁরা ভালোই বোঝেন। অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা সমস্যার কথা বলতে পারে না। তাদের উপর যৌন নির্যাতন হলেও ভয়ে মুখ বুজে থাকে। পড়ুয়ারা যাতে তাদের গোপন কথা বলতে পারে সে জন্য স্কুল গুলিতে বক্স রাখা হয়েছে। সেখানে পড়ুয়ারা তাদের সব কথা চিঠি লিখে জানাতে পারবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোবাইলে আসক্ত হওয়ার কারণে অল্প বয়সীদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। অনেকেই বিপদগামী হয়ে পড়ছে। শিশু সুরক্ষা দপ্তরে চেয়ারম্যান বলেন, হাতের কাছে মোবাইল থাকায় কচিকাঁচারা অনেক কিছু জেনে যাচ্ছে। তাদের বুদ্ধি বিকশিত হচ্ছে না এমনটা নয়, কিন্তু তাদের আগাম অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সেটা ভালো হচ্ছে না। মোবাইল থেকে শিশুদের দূরে রাখাই ভলো। অল্প বয়সে তারা বিভিন্ন বিষয় জেনে যাওয়ায় নিজের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে মনে করছে। অনেকে ১৮ বছরের আগেই বাড়ির অমতেই বিয়ে করছে। 
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, এখন কিশোরদেরও নানাভাবে যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে। কোনটা ‘গুড টাচ’ আর কোনটা ‘ব্যাড টাচ’ সেটা তারা বুঝে উঠতে পারে না। সেই কারণেই এই বিষয়গুলিও তাদের অবহিত করা হবে। আগের মতো এখনকার দিন নেই। কিশোররা অত্যাচার হলে তারা যাতে অভিযোগ জানাতে পারে তারও ব্যবস্থা করা হবে। জেলাশাসক সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ায় এখন নাবালিকা বিয়ে আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ