সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: এসআইআর আবহে নবদ্বীপে রাস্তার পাশে ও নর্দমা থেকে বেশ কিছু ভোটার কার্ড উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য। সোমবার রাতে নবদ্বীপের প্রতাপনগরের হীরালাল পাল রোডের একটি বেসরকারি স্কুলের বিপরীতে একটি রাস্তা থেকে মোট ৮৫টি ভোটারকার্ড উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নবদ্বীপ থানার পুলিশ। তবে আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন এলাকার বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার নবদ্বীপ শহর বিজেপির তরফে স্থানীয় থানায় এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। নবদ্বীপ থানার তরফে জানান হয়েছে, এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সদস্য তথা নবদ্বীপ বিধানসভার বিএলএ আনন্দ দাস বলেন, ওই কার্ডগুলি কোথা থেকে এল, তা জানতে আমরা পুলিশের কাছে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছি। যে কার্ডগুলি পাওয়া গিয়েছে তার বেশিরভাগই পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। যে কার্ডগুলি পাওয়া গিয়েছে সেগুলির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখেছি একই এপিক নম্বরে তাঁদের বাড়িতে ভোটার কার্ড রয়েছে। তাহলে এর আগে ওই ব্যক্তিরা ওই কার্ডেই ভোট দিচ্ছিলেন। ওই কার্ডগুলি সব ভুয়ো। আসলে এখন এসআইআর হওয়ায় তৃণমূলের গাত্রদাহ হচ্ছে। মোট ৮৫টি কার্ড পাওয়া গিয়েছে। আমরা অভিযোগের কপি বিডিও, ইআরও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়েছি। তবে এবিষয়ে পুলিশও ভীষণভাবে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার ঝন্টুলাল দাস জানান, এসআইআর নিয়ে মানুষ এমনিতেই আতঙ্কিত। মানুষকে এই ব্যাপারে আরও বেশি ভয় পাওয়ানো ও আতঙ্কিত করার জন্য বিজেপির পরিকল্পনামাফিক চক্রান্ত হোল কার্ড ফেলে যাওয়া। কেউ যদি কার্ড সরিয়ে ফেলতে চায়, তাহলে কি রাস্তার ধারে ফেলে রাখবে? কাজেই ভোটার কার্ড নিয়ে নাটকের চিত্রনাট্য না সাজিয়ে বিজেপি মানুষের পাশে দাঁড়াক। বিজেপি তো ঠিকমতো বিএলএ দিতে পারছে না। আমরাও চাইছি এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। নির্বাচন কমিশন বিজেপির অধীনে। তারা তদন্ত করে বের করুক এতগুলি ভোটার কার্ড কীভাবে রাস্তার মধ্যে থেকে পাওয়া গেল।
প্রসঙ্গত, এর আগে নবদ্বীপের গঙ্গার ঘাটে আচমকাই বেশকিছু রেশন কার্ড উদ্ধার হয়েছিল। প্রাচীন মায়াপুর সংলগ্ন ভূমাসুখ ঘাটে স্নান করতে গিয়ে কয়েকজন দেখতে পেয়েছিলেন কিছু কার্ড জলের মধ্যে রয়েছে। তাঁরা সেগুলি জল থেকে তুলে দেখেন, প্রায় ৪০ থেকে ৪২ টি রেশন কার্ড পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক চাপানউতোর। তবে এবারও এনিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র