সংবাদদাতা, বোলপুর: আশঙ্কাই এবার সত্যি হল। লাভপুরের খাঁপুরে কুয়ে নদীতে জল বেড়ে ফের ভেঙে পড়ল বাঁধ। গত বছরের মতো এবারও বাঁধ ভাঙনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সেচদপ্তরের গাফিলতির অভিযোগ। লাভপুর ব্লকের ঠিবা ও জামনা অঞ্চলের বহু এলাকা এখন জলের তলায়। বেশ কিছুদিন ধরেই অতিবৃষ্টির কারণে কুয়ে নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে। নদীর জল বাড়ায় বেশ কয়েকদিন ধরে জলমগ্ন ঠিবা অঞ্চলের কাঁদরকুলা, জয়চন্দ্রপুর, চতুর্ভুজপুর, হরিপুর, খাঁপুর, জামনা, শীতলগ্রাম, লাঙ্গলহাটা সহ অন্তত ১৫টি গ্রাম। কাঁদরকুলা থেকে বাঘসিনা যাওয়ার রাস্তাও এখন জলের নীচে। এরমধ্যেই খাঁপুর গ্রামের কাছে ফের বাঁধ ভেঙে সংশ্লিষ্ট এলাকায় হুহু করে জল ঢুকে যাওয়ায় আরও বিপদে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টিপাতে ফুলেফেঁপে উঠেছে কুয়ে নদী। সেই কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই লাভপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জলের তলায় রয়েছে। মঙ্গলবার টানা বৃষ্টির ফলে রাতেই খাঁপুরে ১৫০ফুট নদীবাঁধ ভেঙে গ্রামে হুহু করে জল ঢুকে পড়ে। ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ঠিবা ও জামনা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রায় প্রতিবছরই বর্ষার সময় এই ছবি দেখা যায়। কুয়ে নদীর জল বেড়ে গিয়ে বাঁধ ভাঙে। আর সেই জল গ্রামে ঢোকে। স্কুল-কলেজ বন্ধ, রাস্তাঘাট জলের তলায়, খেতের ফসল নষ্ট, পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়া- এযেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হল না।
বিশেষত খাঁপুর এলাকার বাসিন্দারা ভীষণ ক্ষুব্ধ। গত বছরের বর্ষাতেও ঠিক একই জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙেছিল। দু’বার ভাঙার পর সেচদপ্তরের তরফে বাঁধের দু’টি ভাঙা জায়গা মেরামত করা হয়। কিন্তু, খাঁপুরের কাছের ভাঙা অংশটি আজও সেই অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। সেই অংশ দিয়েই আবার জল ঢুকে বাঁধের আরও কিছু জায়গা ভেঙে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, বহুবার ব্লক প্রশাসন, সেচদপ্তরের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও সুরাহা হয়নি। খাঁপুরের বাসিন্দা উৎপল মণ্ডল বলেন, ‘পাঁচ-সাত বিঘা জমিতে ধান পুঁতেছিলাম। নদীর জলে সব তলিয়ে গিয়েছে।’ অপর বাসিন্দা চণ্ডীচরণ ঘোষ বলেন, ‘পুকুরের মাছ ভেসে গিয়েছে।’ এখনও পর্যন্ত ঘরে জল না ঢুকলেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন সবাই। এমতাবস্থায় কুরুন্নাহার হাইস্কুল ও জামনার দু’টি স্কুলে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। লাভপুরের বিডিও শিশুতোষ প্রামাণিক বলেন, হরিপুর, জয়চন্দ্রপুর, চতুর্ভুজপুর ও জামনা গ্রামে জল ঢুকেছে। দু’টি ত্রাণ শিবির খুলে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকার বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ক্ষতিপূরণ মিললেও প্রতিবছরের এই বন্যা থেকে মুক্তির কী কোনও স্থায়ী সমাধান আদৌ ভাবছে সেচদপ্তর? ভাঙা বাঁধ সারাতে বছর পেরিয়ে গেলেও কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষজন। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, সেচদপ্তরের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার মাশুল আর কতদিন দিতে হবে গ্রামবাসীদের? জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, বন্যার্তদের জন্য যা যা করণীয়, তা প্রশাসন করছে।