Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এখনও জলমগ্ন ঘাটাল মহকুমার একাধিক গ্রাম

কয়েক জায়গায় সামান্য একটু জল বাড়লেও সার্বিকভাবে ঘাটাল মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

এখনও জলমগ্ন ঘাটাল মহকুমার একাধিক গ্রাম
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: কয়েক জায়গায় সামান্য একটু জল বাড়লেও সার্বিকভাবে ঘাটাল মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। চন্দ্রকোণা-১ ও ২ ব্লক এলাকা থেকে বন্যার জল সম্পূর্ণভাবে নেমে গিয়েছে। তবে ঘাটাল পৌরসভা, খড়ার পৌরসভা ও ঘাটাল ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এখনও প্লাবিত রয়েছে। শিলাবতী নদীর জলস্তর কিছুটা কমেছে। কংসাবতীর জলস্তর একই জায়গায় থাকলেও রূপনারায়ণের জল ধীর গতিতে বাড়ছে। এই মুহূর্তে ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দাদের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে জানালেন রাজ্যের সেচ ও জলপথ দপ্তরের মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া।

Advertisement

শুক্রবারের পর ফের তিনি রবিবার ঘাটালে বন্যা পরিদর্শনে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের মহকুমা শাসক, সেচদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, সুপারিনটেডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, পূর্তদপ্তরের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, এসডিপিও সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ঘাটাল শহরের বন্যা পরিদর্শন করার পর একটি প্রশাসনিক মিটিং করেন তিনি। 
মিটিং শেষে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালের পর জুনের প্রথমের দিকে ঘাটালে কখনও এভাবে হড়পা বান হয়নি। বন্যা পরিস্থিতি থেকে সেচদপ্তর, প্রশাসন, সাধারণ মানুষ সবার প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। তিনি রানিচকের বাঁধের সঙ্কটজনক অবস্থার কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শনিবার সকালের দিকে রানিচকের স্লুইসগেট এলাকাটি বিপজ্জনক অবস্থায় চলে গিয়েছিল। গ্রামের সব মানুষ, প্রশাসন এবং সেচদপ্তর সবাই হাতে হাত লাগিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। 
মানসবাবু বলেন,  এবারের বন্যাতে  ঘাটাল ও খড়ার পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড সহ ঘাটাল ব্লকের ১০টি, চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের পাঁচটি এবং চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের তিনটি ব্লকের ১৮৮টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কমবেশি দু’লক্ষ মানুষ এই বন্যার ফলে জলবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এপর্যন্ত দু’হাজারের বেশি মানুষকে ত্রাণ শিবিরে আনা হয়েছে। তাঁদের রান্না করা খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা চলছে। এপর্যন্ত চন্দ্রকোণা থানা এলাকায় বন্যার জলের তোড়ে তলিয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজন সাপে কাটা রোগী সহ বেশ কয়েকজন গর্ভবতী মহিলাকে বন্যা কবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করে এনে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবারের বন্যায় ঘাটাল মহকুমায় তিল, বাদাম, পাট ও সব্জি প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বন্যায় কৃষিদপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী দু’হাজার ২০৭ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, শুকনো খাবার, পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত এবং ধারাবাহিক মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী প্রতি ঘণ্টায়-ঘণ্টায় ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন। জলবন্দি মানুষদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ