নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ব্রিটিশ আমলের পাইপ লাইন বেহাল। একাধিক ঝোরাও শুকিয়ে গিয়েছে। তাই গরম পড়তেই পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে কালিম্পংয়ে। এই অবস্থায় সমস্যা মেটাতে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে কালিম্পং পুরসভা। একইসঙ্গে সেখানে আম্রুত প্রকল্পে ২৬৬ কোটি টাকায় মেগা জল প্রকল্প তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পর্যটন শহরগুলির মধ্যে কালিম্পং অন্যতম। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৪৫ সালে কালিম্পং পুরসভা তৈরি করা হয়। সেই সময় শহরের জনসংখ্যা ছিল মাত্র চার হাজার। তখন পানীয় জলের পাইপ লাইন পাতা হয়। বর্তমানে ২৩টি ওয়ার্ড। জনসংখ্যা ৮০ হাজার। দৈনিক জলের প্রয়োজন আট মিলিয়ন লিটার। কিন্তু দৈনিক জল মিলছে দুই মিলিয়ন লিটার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিটিশ আমলে তৈরি জল প্রকল্পের লাইন বেহাল অবস্থায়। অনেক ঝোরাও শুকিয়ে গিয়েছে। যার জেরে গরম পড়তেই পানীয় জলের হাহাকার দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় পুরসভা জল সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
সমস্যা মেটাতে তৎপর জিটিএ ও কালিম্পং পুরসভা। পুরসভা সূত্রে খবর, ১২ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন মেলা গ্রাউন্ডের কাছে বাগধারা ঝোরার জল থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, ২০ মাইলে পাম্প হাউসের মাধ্যমে রেলি নদীর জল সপ্তাহে দুই-তিন দিন শহরে সরবরাহের চেষ্টা চলছে। জিটিএ’র স্থানীয় সভাসদ তথা বিজিপিএম নেতা সি বি গুরুং বলেন, শহরে জলসঙ্কট মারাত্মক আকার নিয়েছে। পুরনো লাইন সংস্কার, দুর্গম এলাকা থেকে জল আনার জন্য একটি প্রকল্প রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, কালিম্পং পাহাড়ের আম্রুত প্রকল্পে ২৬৬ কোটি টাকার জল প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এমইডি’র উত্তরবঙ্গ জোনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার চিত্তরঞ্জন বর্মন বলেন, ভালুখোলায় ইনটেক ওয়েল তৈরি করা হবে। সেখান থেকে জল ডেল সিভিল লেকে নিয়ে যাওয়া হবে। তা পরিস্রুত করে শহরে বিলি করা হবে। এজন্য ২৪টি রিজার্ভার, বেশকিছু পাম্প হাউস তৈরি করা হবে। আম্রুত-২ প্রকল্পে তা অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।