প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ঝাড়গ্রাম। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা ছুটে আসনে। চাহিদা সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হোটেল, রিসর্ট, হোম-স্টে ও লজের সংখ্যা বাড়ছে। সেইসঙ্গে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বড় হোটেল, লজকে হোম-স্টে করার অভিযোগও রয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে হোম-স্টে গড়ার জন্য এক লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। জিএসটিও দিতে হয় না। সেই সুবিধা নিতে জেলার একাধিক হোটেল বা লজ হোম-স্টে হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
ঝাড়গ্রাম জেলা পর্যটন বিভাগের আধিকারিক বিধান ঘোষ বলেন, জেলায় হোম-স্টের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। বড় হোটেল ও লজকে হোম-স্টের অনুমোদন দেওয়ার যে অভিযোগ উঠছে দপ্তরের তরফে তা খতিয়ে দেখা হবে।
পর্যটন শিল্প ঝাড়গ্রামের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেলা প্রশাসন ২০২১সাল নাগাদ হোম-স্টের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এরপরই জেলাজুড়ে হোম-স্টে প্রকল্পের গতি বাড়তে শুরু করে। ঝাড়গ্রাম জেলায় সরকার অনুমোদিত মোট ১০২টি হোম-স্টে রয়েছে। এছাড়াও হোটেল, লজ ও রিসর্ট রয়েছে প্রায় ১৭০-১৭২টি। ঝাড়গ্রাম ব্লক ও শহরে ৬৫-৭০টি ছোট-বড় হোটেল, লজ রয়েছে। ঘরোয়া পরিবেশের মধ্যে থাকা ও খাওয়ার সুবিধা হোম-স্টেগুলিতে পান পর্যটকরা। তবে হোম-স্টের অনুমোদন পেতে বেশকিছু সরকারি নিয়ম রয়েছে। বাড়িতে ন্যূনতম একটি বা সর্বাধিক ছ’টি ঘর থাকতে হবে। বাড়ির মালিককে বা পরিবারের যে কোনও সদস্যকে সবসময় থাকতে হবে। হোম-স্টের শোবার ঘর অন্তত ১২০বর্গফুট, শৌচালয় ন্যূনতম ৩০বর্গফুট হতে হবে। শৌচালয়ে কোমোডের ব্যবস্থাও আবশ্যক। হোম-স্টের অনুমোদন মিললে তিন বছর বিনোদন কর দিতে হয় না। ডোমেস্টিক রেটে জল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমতি মেলে। ডোমেস্টিক রেটেই ট্যাক্স দেওয়া যায়। সরকারের তরফে হোম-স্টেগুলির জন্য বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেইসকল সুবিধা নিতে জেলার বেশকিছু বড় হোটেল ও লজের মালিক নিয়ম ভেঙে হোম-স্টের অনুমোদন নিয়েছেন। পর্যটন বিভাগ অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি হওয়ার কথা স্বীকারও করে নিয়েছে। তারপরও কেন অনুমোদন বাতিল করা হচ্ছে না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জেলার পর্যটন শিল্পে যুক্তদের অভিযোগ, এর জেরে আসল হোম-স্টে মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। জেলায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের হোম-স্টেতে থাকার নাম করে প্রভাব খাটিয়ে হোটেল ও লজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরের এক হোম-স্টের মালিক বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার পর্যটনের প্রসারে জেলায় হোম-স্টের ব্যবসায়িক প্রসারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সেখানে বেশকিছু বড় হোটেল ও লজের মালিক নিয়ম ভেঙে ফায়দা তুলছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, প্রশাসনের তা অজানা নয়। পর্যটকদের কাছেও জেলার পর্যটন নিয়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরকারি সহায়তায় জেলায় পর্যটনের প্রসার ঘটেছে। পর্যটনশিল্পে বেআইনি কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখুক।