কেওনঝাড়: ক্লাসের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিল ৭ বছরের শিশু। যতক্ষণে ঘুম ভাঙল ততক্ষণে স্কুল বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছে সবাই। জানালা দিয়ে বের হতে গিয়ে আর এক বিপত্তি। গরাদে আটকে যায় মাথা। প্রায় ১৭ ঘণ্টা এভাবেই আটকে থাকতে হয় তাকে। পরদিন স্কুল খোলার পর উদ্ধার করা হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে। ভয়াবহ ঘটনা ওড়িশার কেওনঝড়ের আঞ্জার সরকারি উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে। ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগে উঠেছে। সাসপেন্ড হয়েছেন প্রধান শিক্ষিক।
আটকে পড়া শিশুটির নাম জ্যোৎস্না দেহুরি । সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টেয় স্কুল ছুটির সময় ক্লাসরুমেই ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। ক্লাসে কেউ আছে কিনা তা ঠিকমতো না দেখেই তালা লাগিয়ে বাড়ি চলে যান শিক্ষকরা। মেয়ে বাড়ি না ফিরলে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর শুরু হয়। যোগাযোগ করা হয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও। যদিও জ্যোৎস্নাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে তাঁকে ক্লাসরুমেই দেখতে পান শিক্ষকরা। তখনও তার মাথা জানালার গরাদেই আটকে ছিল। জ্যোৎস্নাকে উদ্ধার করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ার পরিবার ও গ্রামবাসীরা। পরে পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। ঘটনায় প্রধান শিক্ষক গৌরহরি মাহাতোকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আপাতত শিশুটি সুস্থ বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।