সংবাদদাতা, কাঁথি: এগরায় শিক্ষকের মারধরে জখম হয়ে হাসপাতালে একাধিক পড়ুয়া। ছাত্রছাত্রীদের মারধর করা হয়েছে জানতে পেরে অভিভাবক তথা গ্রামবাসীরা স্কুলে এসে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। একাধিক জায়গায় তালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ভিতরে আটকে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বৃহস্পতিবার শিক্ষক দিবসের আগের দিন ঘটনাটি ঘটেছে এগরা-২ ব্লকের বাথুয়াড়ির সুরেন্দ্র যোগেন্দ্র বিদ্যাপীঠে। ঘেরাও-বিক্ষোভের জেরে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলেই আটকে থাকেন। পুলিস অনেক চেষ্টার পর পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। মারধরে জখম অষ্টম শ্রেণির সাতজন ছাত্রছাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জখমদের মধ্যে ছ’ জন ছাত্র এবং একজন ছাত্রী বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, এদিন অষ্টম শ্রেণির ক্লাস নিতে গিয়েছিলেন শিক্ষক বিপ্লব পন্ডা। কয়েকজন পড়ুয়া দুষ্টুমি করছিল। তারা পড়াও বলতে পারেনি। তখনই ওই শিক্ষক ওই ছাত্রছাত্রীদের লাঠি দিয়ে মারেন বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। মারধরে ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। জখম ছাত্রছাত্রীদের স্থানীয় গঙ্গাধরবাড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের মারধরের বিষয়টি জানার পরই অভিভাবক তথা গ্রামবাসীরা স্কুলে জড়ো হন। কেন ছাত্রছাত্রীদের মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো হল, সেই প্রশ্ন তুলে তাঁরা স্কুলে ঢুকে অফিসঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেশ কয়েকজন স্টাফরুমেও ঢুকে পড়েন। শিক্ষক-শিক্ষিকারা হেনস্তার শিকার হন। বিক্ষোভের জেরে ঘরের জিনিসপত্র লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এরপর স্কুলের গেটে এবং স্টাফরুমে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ভিতরে আটকে থাকেন। এদিকে বিক্ষোভে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। খবর পেয়ে এগরা থানার বিশাল পুলিস বাহিনী চলে আসে। পুলিস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে অনড় ছিলেন। পরে বিডিও অরিজিৎ গোস্বামী স্কুলে আসেন। বিডিও ও পুলিস আধিকারিকদের উপস্থিতিতে আলোচনার পর রাতের দিকে বিক্ষোভ ওঠে। পুলিসের উপস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বের করার ব্যবস্থা করা হয়। প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ জানা বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান। পরে আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে এসেছে।