সংবাদদাতা বেলদা: জেলার দাঁতন-২ ব্লকের সাতজন ফেরিওয়ালাকে ওড়িশাতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল। তাঁদের বাড়ি বেলদা থানার সাবড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযোগ, শনিবার বিকেল থেকে ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়া জেলার পুলিস তাঁদের আটকে রাখে। পুলিস আটক করতেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে। তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিসকে জানিয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাবড়া এলাকার শেখ আজিজুল, মীর বাবুল, রফিক মল্লিক, শেখ আনোয়ার, মীর আকবর, রাজা খান এবং মাধব মান্নাদের আটক করেছে ওড়িশার পুলিস। ওই এলাকার বহু মানুষ বংশপরম্পরায় ওড়িশায় ফেরি করেন। কেউ শাড়ি, কেউ চুড়ি ফেরি করে সংসার চালান। আটক ফেরিওয়ালারা দীর্ঘ দশ বছর ধরে ওই কেন্দ্রাপাড়ার গোপালপুর (রাজনগর) এলাকায় থাকতেন। মাঝে মধ্যে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু শনিবার স্থানীয় মানুষজন ফেরিওয়ালাদের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। তারপর তাঁদের ধরে পুলিসের হাতে তুলে দেন। তাঁদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দাঁতন-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ইফতেখার আলি বলেন, ওড়িশাতে আটক আমাদের এলাকার ফেরিওয়ালারা দশ বছরের বেশি সময় ধরে ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়ায় থেকে ফেরি করছেন। এই নয় যে সেখানকার পুলিস ও স্থানীয় মানুষেরা তা জানেন না। তবু তাঁদের বাংলাদেশি বলে আটক করে রাখা হয়েছে বাংলায় কথা বলার জন্য। এভাবেই এখন ওড়িশাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বাংলার মানুষকে, যা নিয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনার কথা জানার পর জেলা পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইফতেখার। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রাপাড়ার পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে জেলা পুলিস। এখান থেকে আটক ব্যক্তিদের যাবতীয় নথিও সংগ্রহ করা হয়েছে। সমস্ত নথি কেন্দ্রাপাড়ায় পাঠানো হবে। জেলা পুলিসের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ওড়িশা পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটক ব্যক্তিদের রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।