নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে বুধবার বড়োসড়ো ‘ধাক্কা’ দিলেন বর্তমান বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। রাজ্য মহিলা শাখার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রর কাছে ইস্তফা পাঠিয়েছেন সাবিনা। ইস্তফাপত্রে সাবিনা উল্লেখ করেছেন, শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণে মহিলা সভাপতি পদে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই আমি ওই পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। ইস্তফাপত্রে সাবিনা আরও লিখেছেন, পদ থেকে ইস্তফা দিলেও আমি দলের একজন কর্মী হিসাবে যথাসাধ্য কাজ করে যাব এবং দলের কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কাজে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করব।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মালদহের সুজাপুর আসন থেকে সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন জোড়াফুল প্রতীকে তিনি জয়ী হন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে মমতা তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর সাবিনা কালীঘাটের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে যোগ দেন ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূলে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপ্লব মিত্র, অরূপ রায়রা ভেবেছিলেন সাবিনাকে মহিলা শাখার দায়িত্ব দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করবেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নামের দল তৈরি ও খাম প্রতীক পাওয়ার একমাসের মধ্যে পদ ছাড়লেন সাবিনা। এই ধাক্কা রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ইদানীং সময়কালে সাবিনা ও তাঁর স্বামীকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। সেই আবহে সাবিনার দলীয় পদ ছাড়ার ঘটনাটি আলোচনার পরিধিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আখরুজ্জামান বলেন, আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাবিনার চিঠিটি পাই। তারপর আমাদের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্র যোগাযোগ করেছিলেন সাবিনার সঙ্গে। দুজনের কথা হয়েছে। সাবিনা শুধুমাত্র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কিন্তু উনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পালটা বলেন, আমাদের কাছে যা খবর আছে তাতে ৮-১০ জন বিধায়ক পাপ ঢাকতে ওই শিবিরে গিয়েছেন। বাকি অনেককে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওই শিবির থেকে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগে আছেন। সময় হলেই জানতে পারবেন।



