নারায়ণসমো দেবো ন ভূতো ন ভবিষ্যতি।
এতেন সতযবাক্যেন সর্ব্বার্থান্ সাধয়ামাহ্যম্।।
—গজেন্দ্রমোক্ষ
নারায়ণসমো দেবো ন ভূতো ন ভবিষ্যতি।
এতেন সতযবাক্যেন সর্ব্বার্থান্ সাধয়ামাহ্যম্।।
—গজেন্দ্রমোক্ষ
পিতামহ ভীষ্ম বলেছিলেন—নারায়ণের সমান অন্য কোন দেবতা হন নাই, হবেন না—এই সত্যবাক্যের দ্বারা আমি সমস্ত প্রয়োজন সাধন কর্বো।
নারায়ণের স্বরূপ আমায় বল?
একদিন নারদ ব্রহ্মাকে বল্লেন—হে প্রভো, আপনাকে নমস্কার; যাতে আত্মজ্ঞান লাভ হয় আমার সেইরূপ উপদেশ দিন। এই পৃথিবীর উৎপত্তি বিনাশের কথা, কে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? পৃথিবী কার উপর অধিষ্ঠিত আছে—ইহা জান্বার জন্য আমার আগ্রহ হয়েছে। আপনি আমাকে তা বলুন—আপনি ত্রিকালজ্ঞ, আপনার অবিদিত কিছু নাই। পূর্ব্বে মনে কর্তাম আপনি এ বিশ্বের একমাত্র ঈশ্বর কিন্তু আপনাকে তপস্যা কর্তে দেখে সে ধারণা আর নাই। এখন বুঝেছি আপনার মায়া দ্বারা এ বিশ্ব সৃষ্টি ও পালন করেন। আমি যাতে সহজ বুঝ্তে পারি এইরূপ সরলভাবে আমায় বুঝিয়ে দিন।
প্রজাপতি ব্রহ্মা বল্লেন—বৎস! তুমি অত্যন্ত দয়ালু এইরূপ প্রশ্ন কর্লে। আমি তোমার কাছে ভগবান্ নারায়ণের বীর্য্য বর্ণনা কর্বো। কিভাবে নারায়ণ এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন তা তোমায় বল্বো। তুমি আমায় যে ঈশ্বর মনে করেছ একভাবে তা সত্য। আমার সৃষ্টি কর্বার শক্তি আছে কিন্তু আমার উপরও একজন সৃষ্টিকর্ত্তা আছেন তাঁকে তুমি জান না। সেই করুণাময় নারায়ণই বিশ্বসৃষ্টি করেছেন। আমি সেই সর্ব্বশক্তিমান্ নারায়ণের ধ্যান করে থাকি। যাঁর দুরত্যয়া মায়ায় মুগ্ধ হ’য়ে তোমরা আমায় জগদ্গুরু বল সেই পরমেশ্বর নারায়ণকে নমস্কার। মায়া নারায়ণের দৃষ্টিপথে পতিত হ’লে লজ্জিতা হ’য়ে তৎক্ষণাৎ পলায়ন করেন। মহাভূতাদি দ্রব্য কর্ম্ম কাল স্বভাব জীব কেহই নারায়ণ হ’তে ভিন্ন নহে। নারায়ণ সকলের মধ্যে বিদ্যমান আছেন।
নারায়ণপরা বেদা দেবা নারায়ণাঙ্গজাঃ।
নারায়ণপরা লোকা নারায়ণপরা মখাঃ।।
নারায়ণপরো যোগো নারায়ণপরং তপঃ।
নারায়ণপরং জ্ঞানং নারায়ণপরা গতিঃ।।
—শ্রীমদ্ভাগবদ্
বেদসকল নারায়ণপর, নারায়ণের মহিমাই বেদসমূহ বর্ণনা করেছেন। দেবগণ নারায়ণের অঙ্গ হ’তে উৎপন্ন হয়েছেন, লোকসকল চতুর্দ্দশ ভুবন নারায়ণেরই অংশ, নিখিল যজ্ঞ নারায়ণ হ’তে সমুৎপন্ন, তিনিই যজ্ঞপুরুষ নারায়ণ, যোগ নারায়ণতৎপর উদ্দেশ্য নারায়ণ প্রাপ্তি, তপস্যা নারায়ণকে লাভ কর্বার জন্য তপস্বিগণ করেন, নারায়ণ পরমজ্ঞান, নারায়ণকে জান্লে আর কিছু জান্বার অবশিষ্ট থাকে না, নারায়ণই পরমগতি, নারায়ণই ইহলোকে ও পরলোকে চরম আশ্রয়। ইহলোকে নারায়ণকে যিনি একান্তভাবে আশ্রয় ক’রে থাকেন দেহান্তে তিনি পরমপদে তাঁর আনন্দময় পদেই স্থানপ্রাপ্ত হন।
শ্রীগুরুপ্রকাশন প্রকাশিত ‘শ্রী ওঙ্কারনাথ-রচনাবলী’ (৩য় খণ্ড) থেকে