নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গত একবছরে বাঁকুড়া জেলায় জঙ্গলে আগুন লেগে বহু গাছ পুড়ে গিয়েছে। সেজন্য বনদপ্তর নতুন করে বৃক্ষরোপণে উদ্যোগী হয়েছে। চলতি বর্ষার মরশুমে বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগ সাত লক্ষ নতুন চারাগাছ লাগাবে। সেইসঙ্গে বনদপ্তরের তরফে দেড়লক্ষ চারাগাছ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে ফলের গাছও থাকবে। বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বৃক্ষরোপণে বনকর্মীদের বেগ পেতে হয়। সেজন্য ওই সমস্ত এলাকায় দূর থেকে ‘সিড বম্ব’ নিক্ষেপ করা হবে। শুশুনিয়া পাহাড়েও গুলতি দিয়ে এই সিড বম্ব ছোড়া হবে।
এবিষয়ে বাঁকুড়া উত্তরের ডিএফও দেবাশিস মহিমাপ্রসাদ প্রধান বলেন, আমরা এবার ৪৭০হেক্টর জমিতে চারাগাছ রোপণের পরিকল্পনা করেছি। সব মিলিয়ে, সাতলক্ষ চারাগাছ লাগাব। দুর্গম এলাকায় সিড বোমার সাহায্যে বনসৃজন করা হবে। সেইসঙ্গে দেড়লক্ষ চারাগাছ বিলি করা হবে।
কালীপুজোর পর থেকে বাঁকুড়ায় শুষ্ক আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়। এই জেলার বেশিরভাগ জঙ্গলেই পর্ণমোচী বৃক্ষ রয়েছে। শীতে ওই সমস্ত জঙ্গলে গাছের পাতা ঝরে পড়ে। মাটিতে পড়ে থাকা সেই শুকনো পাতায় আগুন ধরানোর প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। গত একবছরে বড়জোড়া, সোনামুখী, বেলিয়াতোড়ের জঙ্গলে বারবার আগুন লেগেছিল। জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র শুশুনিয়া পাহাড়েও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ‘বাঁকুড়ার আমাজন’ বলে পরিচিত সুতান-ঝিলিমিলির জঙ্গলে বিস্তীর্ণ এলাকা ছাই হয়ে যায়। বনসৃজনের উদ্দেশ্যে প্রতিবছরই বনদপ্তর বৃক্ষরোপণ করে। গতবছর প্রচুর গাছ পুড়ে যাওয়ায় এবার তাতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেঞ্জ ও বিট অফিসের পাশাপাশি বনসুরক্ষা কমিটিকেও একাজে লাগানো হচ্ছে। জঙ্গলের ফাঁকা জায়গায় নতুন করে চারাগাছ রোপণের উদ্দেশ্যে সিড বেড তৈরি হয়েছে। ওই বীজতলা থেকে চারাগাছ তুলে জঙ্গলে রোপণ করা হবে। গোবর মিশ্রিত মাটির মধ্যে সোনাঝুড়ি গাছের বীজ ভরে তৈরি হয়েছে ‘সিড বম্ব’। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পাহাড়ের গায়ে বড় বড় পাথরের মাঝে মাটি থাকে। সেই মাটিতে আগাছা জন্মায়। সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই ওই সমস্ত জায়গা লক্ষ্য করে সিড বম্ব নিক্ষেপ করা হবে। বর্ষার বৃষ্টিতে সিড বোমার মাটি গলে যাবে। জল পেয়ে বীজ থেকে অঙ্কুর বের হবে। গোবরমাটিতে জন্মানো চারাগাছ কিছুদিনের খাবারও পেয়ে যাবে। কয়েকবছর আগে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে সিড বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এবার ওই পদ্ধতি জঙ্গলমহলের অন্য জেলাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।