সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চলল গুলি। জখম এক কিশোরী, দুই মহিলা সহ মোট পাঁচজন। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে আসাতেই ঘটে এমন বিপত্তি। ওই সিকিউরিটি গার্ডকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি, অসাবধানতাবশত বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখমরা হলেন মেরি নাগ, সোনালি নাগ, সঞ্জিতা পাহান, মহম্মদ নুরুল হক এবং বিপ্লব সিংহ। এদের মধ্যে সোনালি কিশোরী। তার মা মেরি নাগ। তারা ব্লকের সাহাবাদের বাসিন্দা। সঞ্জিতা মারিয়ামগছের, নুরুল সূর্যগছ এবং বিপ্লব তোতাগছের বাসিন্দা।
অন্যান্য দিনের মতো এদিনও সকাল থেকে ব্যাংকে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল। কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলেছিলেন, কেউ টাকা জমা দিতে এসেছিলেন। এছাড়া অন্যান্য কাজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কয়েকজন। দুপুরে হঠাৎই গুলির আওয়াজে গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ঘটনাক্রমে পাঁচজন রক্তাক্ত হন। মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। খবর পেয়ে বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ চলে আসে। পরে জখমদের উদ্ধার করে বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিশোরীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি চারজনকে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। জখমদের সকলেরই হাঁটুর নীচে গুলি লেগেছে।
এনিয়ে নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় বলেন, এক প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ওই ব্যাংক নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে রেখেছে। আমরা তদন্ত করে দেখেছি, ওই রক্ষী ডবল ব্যারেল বন্দুক রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ বন্দুকটি মাটিতে পড়ে গিয়ে এক রাউন্ড গুলি বের হয়। এতে একাধিক প্যালেটস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় পাঁচজন জখম হন। তাঁদের মধ্যে এক কিশোরীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন। তবুও ওই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এনিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে জখমদের পরিজনরা ব্যাংকে চলে আসেন। জখম নুরুলের বাবা মহম্মদ মুস্তফা বলেন, এদিন ছেলে বউমাকে নিয়ে ব্যাংকে টাকা তুলতে যায়। দুপুরে নুরুলই ফোন করে জানায় ওর পায়ে গুলি লেগেছে। নুরুলের ভাই মহম্মদ সাইবুল বলেন, দাদা ফোন করে ঘটনার কথা জানায়। আমরা আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংকে আসি। পরে দাদা সহ জখম বাকিদের মেডিকেলে নিয়ে যাই। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা থানার দ্বারস্থ হব। যদিও এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেওয়া সহ সবরকম সহযোগিতা পুলিশকে করা হচ্ছে। সিকিউরিটি গার্ড মানিক রায় বলেন, বন্দুক মেঝেতে পড়ে যাওয়াতেই এমন বিপত্তি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ যা জানতে চেয়েছে, তা জানিয়েছি।
• ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য। - নিজস্ব চিত্র।