সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ইচ্ছেমতো প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না সরকারি চিকিৎসকরা। পাশাপাশি গত জানুয়ারি মাসে রোগী স্বার্থ, ইমার্জেন্সি পরিষেবার উন্নতি এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে গবেষণার উন্নতি-সহ চিকিৎসকদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশ জারি করেন স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। তবে সরকারি চিকিৎসকদের একাংশের ডিউটি আওয়ার্সে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস নিয়ে অভিযোগের অন্ত আগেও ছিল না, এখনও নেই। বর্তমানে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ‘প্রি প্যারা ক্লিনিক্যাল’ চিকিৎসকদের একাংশ অফিস টাইমে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকছেন বলে অভিযোগ। আর বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। সেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে আইএমএ।
‘প্রি-প্যারা ক্লিনিক্যাল’ হল চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিভাগে বিভিন্ন মৌলিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক বিষয় যেমন অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি, কমিউনিটি মেডিসিন এবং প্যাথলজি অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়গুলি মানুষের শরীর ও রোগ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান প্রদান করে, যা পরবর্তীতে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা বা রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করে। কিন্তু রামপুরহাট মেডিক্যালের প্রি প্যারা ক্লিনিক্যাল চিকিৎসকদের একাংশ সরকারি বেতন ভোগ করলেও ঠিকমতো ডিউটি করছেন না বলে অভিযোগ। অফিস আওয়ার্সে তাঁরা বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে রোগী দেখছেন। যার ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর আগে একাধিকবার চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে উত্তাল হয়েছে রামপুরহাট মেডিক্যাল। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসেই বেশি ব্যস্ত থাকছেন চিকিৎসকরা। এমনকী মেডিক্যালে ভর্তি থাকা রোগী হঠাৎ হঠাৎ করে গায়েব হয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের দেখা মিলছে নার্সিংহোমে। কিছুদিন আগে খোদ রামপুরহাট বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এমন অভিযোগ তুলেছিলেন।
গত জানুয়ারি মাসে এবিষয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেন স্বাস্থ্যসচিব। তারপরও অবস্থার তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিক্যালের এক আধিকারিক বলেন, অনেক প্রি প্যারা ক্লিনিক্যাল এবং কিছু ক্লিনিক্যাল চিকিৎসক অফিস আওয়ার্সে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন। প্রি প্যারা ক্লিনিক্যাল চিকিৎসকদের সকাল ৯টা থেকে বিকেলে ৫টা পর্যন্ত মেডিক্যালে ডিউটি। কিন্তু এই টাইমের মধ্যে অনেকে ডিউটি না করে বাইরে প্র্যাকটিস করছেন। ৯টা না হোক, দশটায় আসুন, কিন্তু সেটাও হচ্ছে না। অথচ ক্লাস না থাকলেও ডিউটি আওয়ার্স পর্যন্ত তাঁদের অফিসে বসে থাকার কথা। এটা অনেকের চোখেই পড়ছে। তার মধ্যে কয়েকজন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এব্যাপারে আইএমএ-র রামপুরহাট মহকুমার সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রি প্যারা ক্লিনক্যালে যারা রয়েছেন, তাঁরা মেডিক্যালের ডিউটি আওয়ার্সে বাইরে প্র্যাকটিস করছেন, এটা বাঞ্ছনীয় নয়। আইনি বৈধতাও নেই। যে সময়টা তাঁদের সরকারি হাসপাতালে দেওয়া উচিত, সেই সময় বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয় করছেন। সরকারি হাসপাতালের রোগীরা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যদপ্তরের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
যদিও এব্যাপারে এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, প্রি প্যারা ক্লিনিক্যাল লোকদের দেখার কথা আমার নয়। এবিষয়ে যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর প্রিন্সিপাল দেবেন। তবে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসকদের একটা অংশ যে ঠিকমতো ডিউটি করছেন না, সেব্যাপারে বহু তথ্য জমা পড়েছে। আমি তাঁদের জানিয়ে দিয়েছি, সময়মতো আসতে হবে। অভিযোগ যখন উঠেছে, তখন আমি আবার তাঁদের বলব। অন্যদিকে প্রি প্যারা ক্লিনিক্যাল প্রসঙ্গে প্রিন্সিপাল করবী বড়ালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখছি।