


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নন্দিনী চক্রবর্তীকে নিজের প্রধান সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তা নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে প্রশাসনের অন্দরে। তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি নন্দিনীকে পর্যটন সচিব করে আনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যসচিব। তাঁর ছেড়ে আসার পর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যপালের সচিব পদে কেউ নেই। প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যপাল বোসই এই পদে কাউকে রাখতে চাননি। ফলে তিন বছর ধরে রাজ্যপালের সচিব ছাড়াই চলেছে রাজভবনের কাজকর্ম। এবার এই শূন্যপদ পূরণ হতে চলেছে বলে খবর। বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েছেন আর এন রবি। তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যপালের সচিব সহ মোট পাঁচটি শূন্যপদে আধিকারিক নিযুক্ত করার জন্য নবান্নকে ইমেল পাঠাল রাজভবন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যপালের সচিব পদের জন্য এক জন আইএএস অফিসার, বিশেষ সচিবের জন্য একজন প্রোমোটি আইএএস, দু’জন যুগ্মসচিব ও একটি ডেপুটি সচিবের পদের জন্য তিনজন ডব্লুবিসিএস অফিসার চাওয়া হয়েছে। নবান্নের তরফে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, বিষয়টি আগাগোড়া গুরুত্ব সহকারে দেখে রাজ্য। যদিও বোসের মেয়াদকালে (বিগত তিন বছরে) রাজভবনে শূন্যপদের সংখ্যা সর্বাধিক হয়। এক্ষেত্রে প্রাক্তন রাজ্যপাল না চাওয়াতেই নিয়োগের পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি অভিজ্ঞ আমলাদের। জানা গিয়েছে, নয়া রাজ্যপালের আপাতত ছ’জন ওএসডি এবং দু’জন পিএ নিযুক্ত করারও অনুমোদন চাওয়া হয়েছে রাজভবনের তরফে। পরবর্তী পর্যায়ে আপার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, লোয়ার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট পদও পূরণ করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার রাজভবনে শপথ গ্রহণ পর্বের পর কথা হয় নয়া রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর। যা ছিল একেবারেই সৌজন্যমূলক। রাজ্যপালকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। রাজ্যপালকে তিনি বলেন, ‘বাংলা সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ভূমি। এখানকার মানুষ খুব ভালো। যাঁরা বাংলাকে ভালোবাসে, বাংলার মানুষও তাঁদের ভালোবাসে।’ রাজ্যপালও বলেন, ‘বাংলাই ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।’ এই সৌজন্যের আবহে রাজভবনে আধিকারিক নিযুক্ত করার বিষয়টি অনেক মসৃণ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।