নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। স্বামীর সন্ধানে প্রথম পক্ষের স্ত্রী সেখানে গিয়ে দেখলেন, দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর গলাকাটা মৃতদেহ আর স্বামী ঝুলছে দড়ির ফাঁসে। ঘরের ভিতর থেকে দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে খড়গপুর শহরে। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীদের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন স্বামী। মৃতদের নাম দীপা মাহাত (২৬) ও বিক্রম পুত্তা (৩৭)। খড়্গপুর শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়হিন্দ নগরের এই ঘটনায় তাজ্জব স্থানীয়রা। ওই দম্পতির মধ্যে বেশকিছু মাস ধরেই নানা বিষয় নিয়ে অশান্তি চলছিল। পুলিসের অনুমান, রবিবার রাতেও ওই দম্পতির মধ্যে অশান্তি হয়। তার জেরেই দ্বিতীয় স্ত্রী দীপাকে গলা কেটে খুন করে বিক্রম। পরে বিক্রম আত্মঘাতী হয়। তাদের তিন বছর বয়সি এক শিশু সন্তান রয়েছে। যদিও মৃতার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই ঘটনায় তৃতীয় কোনও ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। কারণ, ওই শিশু সন্তান অন্য এক ব্যক্তির উপস্থিতির কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্রম দীর্ঘদিন ধরে গাড়ির ড্রাইভারি করত। বছর পনেরো আগে খড়গপুর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিমপুরা এলাকার বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে বিয়ে হয় বিক্রমের। তাঁদের সন্তান রয়েছে। তবে কিছু বছর আগে দীপার সঙ্গে বিক্রমের প্রেম হয়। দীপাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় বিক্রম। প্রথম প্রথম সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, পরে তাঁদের মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। তবে বিক্রমের দ্বিতীয় বিয়ে, সন্তান ইত্যাদি বিষয়ে প্রথম পক্ষের স্ত্রী জানতেন না। মাঝে মধ্যেই দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর কাছে আসতেন বিক্রম। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। সম্ভবত রবিবার রাতেও তাদের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। তারই জেরে দীপাকে মেরে আত্মঘাতী হয় বিক্রম।
এদিকে রাতে স্বামী বাড়ি না ফেরায় খোঁজ করতে করতে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর বাড়িতে এসে পৌঁছয় প্রথম পক্ষের স্ত্রী। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানায়, দরজা খোলার পরেই দেখি স্বামীর ঝুলন্ত দেহ। ঘরে দীপার মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। রাতে বাড়ি না ফেরায়, এই এলাকায় এসে স্বামীর খোঁজখবর নিতে শুরু করি। দরজা খুলতেই এই দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। পুলিস এসে তদন্ত করছে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সম্প্রতি দীপা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। তা জানতে পেরেই বিক্রমের সঙ্গে দীপার সম্পর্কে ফাটল ধরে। সম্ভবত সেদিন রাতে অশান্তির পরেই খুনের সিদ্ধান্ত নেন বিক্রম। স্থানীয় কাউন্সিলর বি মুরলি বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় এসেছি। মনে হচ্ছে, খুন করেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব। শোকাহত পরিবার।-নিজস্ব চিত্র